আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশাল আকৃতির ওই যুদ্ধবিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে বিমানের জরুরি নির্গমণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন।
সোমবার ঘটা এই বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টি রাশিয়ার সরকারি পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং রুশ সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় আকস্মিকভাবে বিমানের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া বা গুরুতর কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, এটি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান ছিল না, বরং রুটিন সামরিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই বিমানটি আকাশে উড়েছিল।
স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, আবাসিক এলাকা থেকে বেশ দূরে একটি জনমানবহীন দুর্গম অঞ্চলে বিমানটি আছড়ে পড়ায় মাটিতে থাকা কোনো নাগরিক বা বেসামরিক স্থাপনার বিন্দুমাত্র ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এছাড়া, সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উড্ডয়নের সময় ওই বোমারু বিমানে কোনো ধরনের তাজা যুদ্ধাস্ত্র বা গোলাবারুদ মজুত ছিল না।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সফলভাবে ওই চারজন বৈমানিককে উদ্ধার করে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাদের তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যমতে, বৈমানিকদের কারোরই আঘাত গুরুতর বা প্রাণঘাতী নয় এবং তারা বর্তমানে সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রুশ সামরিক বাহিনীর এই বোমারু বিমানটি আঙ্গারা নদীর তীরের কাছাকাছি একটি গহীন বনাঞ্চলের দিকে তীব্র গতিতে নেমে এসে আছড়ে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আকাশের দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাবেক সোভিয়েত আমলে তৈরি এবং শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম এই কৌশলগত বোমারু বিমানটি রুশ সামরিক বহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বিধ্বংসী অংশ।
এই বিমানটি শক্তিশালী হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ ও ‘ড্যাগার’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সম্পূর্ণভাবে সক্ষম, যা কৌশলগত দিক থেকে একে অত্যন্ত ভয়ংকর করে তুলেছে। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এই যুদ্ধবিমানটির বিশেষ সাংকেতিক নাম দিয়েছে ‘ব্যাকফায়ার’।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সিরিয়ার সংঘাত এবং ইউক্রেনে চলমান দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে এই মডেলের বোমারু বিমানের ব্যবহার করে আসছে।