একই সঙ্গে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত অত্যাধুনিক ড্রোন উন্নয়নের রূপরেখা এবং ইউক্রেনের হামলার জবাবে আরও কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পুতিন উল্লেখ করেন যে, সদ্য পালিত ‘রাশিয়া দিবস’ মূলত দেশের প্রতিরক্ষায় নিবেদিত সেনাসদস্যদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে ইউক্রেনের বিশেষ সামরিক অভিযানের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সাত লাখেরও বেশি রুশ সেনাসদস্য সরাসরি মোতায়েন রয়েছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পুতিন দাবি করেন, ন্যাটো জোটের প্ররোচনায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দীর্ঘ আট বছর ধরে মস্কো এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল।
এ সময় তিনি রণাঙ্গন থেকে ফিরে আসা সেনাদের জন্য উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসাকেন্দ্রিক পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিষয়ে আলোকপাত করে রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়া বর্তমানে ফার্স্ট-পারসন ভিউ বা এফপিভি ড্রোন এবং সম্পূর্ণ এআই নিয়ন্ত্রিত ড্রোন তৈরিতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তার মতে, রাশিয়ার নিজস্ব নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা মার্কিন স্টারলিংকের সমকক্ষ এবং কিছু নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে তার চেয়েও অনেক বেশি উন্নত।
সম্প্রতি মহাশূন্যে আরও ১৬টি নতুন স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংখ্যা এখনও রাশিয়ার চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলা মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন যে, রাশিয়া নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র করতে এমন সব অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তৈরি করছে, যা শত্রুপক্ষের প্রযুক্তির চেয়ে সর্বদা এক ধাপ এগিয়ে থাকবে।
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার চলমান ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নিয়েও পুতিন খোলামেলা কথা বলেন। ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নেপোলিয়নের শাসনামল থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পর্যন্ত ইউরোপ বারবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর শক্তিশালী অর্থনীতি ও উন্নত প্রযুক্তির প্রশংসা করে তাদের 'যোগ্য প্রতিপক্ষ' হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও পুতিন দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, পশ্চিমা বিশ্ব এখন গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে যে রাশিয়াকে কৌশলগতভাবে পরাজিত করা একেবারেই অসম্ভব।
পরিশেষে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার অর্থনীতির সামান্য ক্ষতি হলেও তা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাটিয়ে ওঠা হচ্ছে। রুশ ভূখণ্ডের কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তার জবাবে মস্কো প্রতিশোধমূলক হামলার মাত্রা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করবে, যাতে প্রতিপক্ষের এ ধরনের আক্রমণ চালানোর বিন্দুমাত্র সাহস অবশিষ্ট না থাকে।