শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুঞ্জনের মাঝেই পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের প্রতি সমর্থন জানাল ইউরোপীয় কমিশন

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

গুঞ্জনের মাঝেই পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের প্রতি সমর্থন জানাল ইউরোপীয় কমিশন
ছবি: AA

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধানের ক্ষমতা হ্রাস করার বিষয়ে জোটের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সদস্য দেশের মধ্যে অসন্তোষ ও গুঞ্জন ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

তবে এমন প্রকাশ্য আলোচনার মাঝেই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক দপ্তরের সার্বিক কার্যক্রমের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ সমর্থন ও জোরালো আস্থা ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় কমিশন।

 

শুক্রবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে আয়োজিত এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে এই অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সংকটগুলো মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কূটনৈতিক শাখা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে কি না, তা নিয়ে বেশ কিছু সদস্য দেশের মধ্যে একধরনের গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

 

ঠিক এমন একটি জটিল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে ইউরোপীয় কমিশনের এই আনুষ্ঠানিক সমর্থনকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির আঙিনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান মুখপাত্র পাউলা পিনহো শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই চলমান বিতর্ক বিষয়ে কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) মূলত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহুমুখী বৈদেশিক নীতিগুলো অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে থাকে।

 

তিনি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ব্যক্তিগতভাবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক জায়গা থেকে এই কূটনৈতিক দপ্তর এবং এর সার্বিক কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন।

 

পাউলা পিনহোর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য ও চলমান বিতর্কের দ্রুত অবসান ঘটানোর একটি প্রচ্ছন্ন কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত অর্থনৈতিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

 

ওই সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র জোটের সামগ্রিক কূটনৈতিক ব্যবস্থায় একটি কাঠামোগত ও বড় ধরনের পরিবর্তন বা সংস্কার আনার বিষয়ে নিজেদের মধ্যে নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এই সম্ভাব্য সংস্কার প্রস্তাবনার মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাসের ক্ষমতা ও এখতিয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা।

 

একই সঙ্গে, তাঁর হাতে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, কৌশলগত ও কূটনৈতিক দায়িত্ব জোটের অন্যান্য সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌক্তিকভাবে পুনর্বণ্টন করে দেওয়ার বিষয়েও জোরালো প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের ওই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিস বা ইইএএস-এর আমূল সংস্কারের এই উদ্যোগে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো জোটের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী দেশগুলো।

 

তাদের এই গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে সামনে আনা হয়েছে। দেশগুলোর শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ের বড় ধরনের এবং অত্যন্ত জটিল আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক সংকটগুলো মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রধান কূটনৈতিক শাখাটি আশানুরূপ, দ্রুত এবং কার্যকর সাড়া দিতে অনেকাংশেই হিমশিম খাচ্ছে।

 

ফলশ্রুতিতে, বর্তমান বিশ্বের বহুমুখী মেরুকরণের যুগে বৈশ্বিক কূটনীতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক অবস্থান, ঐক্য ও প্রভাব আরও সুসংহত করতে এই দপ্তরের ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

 

- আনাদোলু এজেন্সি