দীর্ঘ প্রায় নয় মিনিট ধরে জানালার কার্নিশে বিপজ্জনকভাবে ঝুলে থাকার পর শিশুটি যখন নিচে পড়ে যায়, তখন নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ জেসিল নামের ওই ব্যক্তি তাকে একেবারে পেশাদার ক্রিকেটারের মতো ক্যাচ ধরে ফেলেন।
গত মঙ্গলবার ইলফোর্ড হাই রোডের একটি বাণিজ্যিক ভবনের ওপর এই হৃদয়বিদারক অথচ অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে। শ্বাসরুদ্ধকর এই উদ্ধারকাজের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভাসছেন ওই উদ্ধারকারী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মেট্রো এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহাম্মদ জেসিল লন্ডনে পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ভারতে থাকার সময় তিনি নিয়মিত ক্রিকেট খেলতেন।
ক্রিকেটের মাঠে ফিল্ডিং করার সেই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাই মূলত তাকে এই কঠিন ও স্নায়ুচাপের মুহূর্তে শিশুটিকে নিরাপদে ক্যাচ ধরতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।
মানবিক এই অসামান্য উদ্যোগের পেছনের আবেগ সম্পর্কে জানাতে গিয়ে জেসিল বলেন, তার নিজেরও পাঁচ বছর বয়সী জমজ সন্তান রয়েছে। মূলত একজন বাবা হিসেবে নিজের পিতৃসুলভ দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি ওই বিপন্ন শিশুটির জীবন বাঁচাতে দ্বিধাহীনভাবে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হলে শিশুটিকে বিপজ্জনক অবস্থায় জানালার কার্নিশে ঝুলে থাকতে দেখে তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং জরুরি পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি যখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য প্রাথমিক চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সেখানে দৌড়ে যান জেসিল।
সবার চোখের সামনে শিশুটি যখন কার্নিশ থেকে ফসকে তীব্র বেগে নিচে পড়ে যেতে শুরু করে, তখন জেসিলের ক্ষিপ্রতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে এক নিশ্চিত মর্মান্তিক পরিণতির হাত থেকে রক্ষা পায় সে।
সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, এত উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ার পরও সৌভাগ্যক্রমে শিশুটির শরীরে বিন্দুমাত্র আঘাত লাগেনি। সে সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে। এই অভাবনীয় ও অলৌকিক ঘটনার পর শিশুটির বাবা আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি মোহাম্মদ জেসিল এবং উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বাস্তব জীবনের সত্যিকারের নায়ক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নিজের মেয়েকে এমন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের প্রতি তিনি গভীর ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনাটি মানবিকতা, তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা এবং অসীম সাহসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।