শুরুতে একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই গণআন্দোলনের সূচনা হলেও, সপ্তাহান্তে তা চরম এবং ধ্বংসাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে গত শনিবার, একত্রিশে অক্টোবর গভীর রাতে জার্মানির বিভিন্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ব্যাপক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে।
দেশটির প্রধান আর্থিক ও বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যেখানে শহরের প্রধান কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাট এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা সংঘটিত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রথম সারির সংবাদ সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক প্রতিবেদনে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে জার্মানির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও তাৎপর্যপূর্ণ তরুণ অসন্তোষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
জার্মানির আর্থিক কাঠামোর মূল কেন্দ্রবিন্দু ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কেন্দ্রস্থল, যা সাধারণত তার সুশৃঙ্খল পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রাণচাঞ্চল্যের জন্য সুপরিচিত, শনিবার রাতে তা আক্ষরিক অর্থেই এক ধ্বংসযজ্ঞের রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত অন্তত দুটি বিশাল ও সুপরিচিত বিপণিবিতানে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং সেখানে ব্যাপক মাত্রায় লুটপাট চালায়। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি আশেপাশের আরও বেশ কয়েকটি ছোট-বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নির্বিচারে ভাঙচুর চালানো হয়।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে তা সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য যখন ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হন, ঠিক তখনই বিক্ষোভকারীদের ভেতরের একটি অত্যন্ত উগ্র অংশ পুলিশের দিকে সরাসরি ককটেল এবং পেট্রোল বোমা বা মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
মুহুর্মুহু বোমার আওয়াজ এবং আগুনের কুণ্ডলীতে পুরো এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ চরম উত্তপ্ত, ভীতিকর এবং দমবন্ধ করা এক পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। উদ্ভূত এই চরম অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত জরুরি ও সতর্কতামূলক বার্তা প্রকাশ করতে বাধ্য হয়।
আনুষ্ঠানিক ওই বার্তায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, "শহরের কেন্দ্রস্থলে বর্তমানে অত্যন্ত সহিংস বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর ও তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। একাধিক বিপণিবিতান এবং অসংখ্য দোকানের কাঁচের জানালা ইতোমধ্যে ভেঙে চুরমার করে ফেলা হয়েছে।
পরিস্থিতি এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে কারণ বিক্ষোভকারীরা এখন আর কেবল ভাঙচুরেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা সরাসরি জরুরি সেবা প্রদানকারী স্বাস্থ্যকর্মী, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে মারাত্মক মোলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করছে।"
জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সাধারণ পথচারী ও নাগরিকদের শহরের কেন্দ্রস্থল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার কঠোর নির্দেশ প্রদান করে এবং যারা ইতোমধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ওই এলাকায় অবস্থান করছেন, তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ জানায়।
তবে এই গণআন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যার বিষয়ে আয়োজক সংগঠনগুলোর পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং পুলিশের দেওয়া বাস্তব উপস্থিতির পরিসংখ্যানে বেশ বড় ধরনের একটি দৃশ্যমান তারতম্য লক্ষ করা গেছে।
আয়োজকদের প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশব্যাপী এই বিক্ষোভে প্রায় এক লাখ বিরাশি হাজার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কথা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি হিসাব এবং পুলিশের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ এবং রাজধানী বার্লিন মিলিয়ে সার্বিকভাবে প্রায় আঠারো হাজার বিক্ষোভকারী এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারী আয়োজকদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে যে, অন্তত ছত্রিশ হাজার তরুণ এই বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে যোগ দিয়েছেন। শনিবার রাতে দেশটিতে যখন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব হ্যালোইন উদযাপিত হচ্ছিল, ঠিক সেই উৎসবের ডামাডোলের মাঝেই জার্মানির আরেক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক শহর হামবুর্গেও এই বিক্ষোভের প্রবল আঁচ ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে বিক্ষোভকারীরা রাতের অন্ধকারে বেশ কয়েকটি প্রধান সড়কে বিশাল ব্যারিকেড তৈরি করে তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, যা ওই শহরের সাধারণ মানুষের মনে বাড়তি আতঙ্ক ও ভীতির সৃষ্টি করে।
রাজধানী বার্লিনে আয়োজিত এক বিশাল ও সুসংগঠিত সমাবেশে আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলো অত্যন্ত সাবলীল ও জোরালোভাবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন ‘জেন জি রেজেল্ট’ নামক তরুণ সংগঠনের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ।
বিক্ষুব্ধ ও অধিকারবঞ্চিত তরুণ সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা আজ এখানে সমবেত হয়েছি, তবে তা কোনো যুদ্ধ বা রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য বাধ্যবাধকতার পক্ষে দাঁড়াতে নয়।
আমরা এসেছি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, স্বাভাবিক শান্তি, মুক্তি এবং স্বাধীনতার পক্ষে নিরলস লড়াই করতে।" বর্তমান প্রজন্মের ক্ষোভের মূল কারণগুলো বিশদভাবে ব্যাখ্যা করে তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক বিষয় হলো দেশের স্বাস্থ্যখাত এবং শিক্ষাব্যবস্থার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও অনেক বেশি উন্নত, যুগোপযোগী ও কার্যকর সহায়তা প্রদান করা।
আমরা কোনোভাবেই আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক সামরিক সেবাকে মেনে নেব না। আমরা চাই সমাজে প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক বোঝার একটি অত্যন্ত ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং সমতাভিত্তিক বণ্টন নিশ্চিত করা হোক, যাতে কেবল তরুণদের ওপরই সমস্ত রাষ্ট্রের চাপ এসে না পড়ে।"
রাজপথের এই লাগাতার সহিংসতা এবং নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনায় সরকারের উচ্চ মহল থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। জার্মানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হেসি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পসেক বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ফ্রান্সের সাম্প্রতিক ছাত্র ও তরুণদের ভয়াবহ বিক্ষোভের সাথে সরাসরি তুলনা করে একটি অত্যন্ত কড়া ও সতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছেন।
ফরাসি সহিংসতার ভয়াল উদাহরণ টেনে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে যে মাত্রায় লাগামহীন লুটপাট হয়েছে, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বাড়িঘর ও পুলিশের টহল গাড়িতে যেভাবে প্রকাশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের ওপর যে নজিরবিহীন ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেই চরম ধ্বংসাত্মক ছবিগুলো আমাদের সবার মনে এখনও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে গেঁথে আছে।
জার্মানির তরুণ সমাজকে অবশ্যই এটি বুঝতে হবে, দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সেই উগ্র সহিংসতাকে কোনোভাবেই একটি আদর্শ মডেল হিসেবে আমাদের দেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না।"
এদিকে, উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে ছদ্মবেশে অনুপ্রবেশ করে বৃহত্তর কোনো নাশকতা চালাতে পারে-এমন গভীর ও বাস্তব আশঙ্কায় রাজধানী বার্লিনের অত্যন্ত বিলাসবহুল ‘কুর্ফুর্স্টেনডাম’ শপিং অ্যাভিনিউসহ দেশের একাধিক বড় ও বাণিজ্যিক শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগেই চূড়ান্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুর থেকে নিজেদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষার্থে তাদের দোকানপাটের বাইরের কাঁচের অংশগুলো শক্ত কাঠের তক্তা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দিয়েছেন।
মিউনিখ শহরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘদিনের জমাট বাঁধা হতাশা ও ক্ষোভের কথা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরেন মাত্র আঠারো বছর বয়সী এক সাধারণ শিক্ষার্থী স্টিভ।
বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমাদের এত গভীর উদ্বেগ এবং সম্পূর্ণ ন্যায্য দাবিগুলোর বিপরীতে সরকার এখন পর্যন্ত ন্যূনতম কোনো গঠনমূলক বা ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
বরং এর ঠিক উল্টো চিত্র আমরা দেখতে পাচ্ছি; তারা ধারাবাহিকভাবে শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাজেট চরমভাবে ছাঁটাই করছে এবং আমাদের মতো তরুণদের কাঁধে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝা অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দিচ্ছে।"
তিনি সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা আমাদের এই জীবনঘনিষ্ঠ দাবিগুলোকে অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ না করবেন, ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথে একত্রিত হওয়ার আমাদের যে সাংবিধানিক, গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার রয়েছে, তার সর্বোচ্চ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রয়োগ যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখব।"
অন্যদিকে, দেশের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান বাস্তব ও অত্যন্ত করুণ চিত্র নির্দ্বিধায় তুলে ধরেন বিশ্ববিখ্যাত বার্লিন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক সাধারণ শিক্ষার্থী শন বেকার। তিনি নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ভবনের জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আপনি যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে যাবেন এবং বিভিন্ন ক্লাসরুমে প্রবেশ করবেন, তখন চারপাশের দেয়াল আর ছাদ দেখে আপনার মনে হবে যেন এটি কোনো বহুকাল আগের পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে ভবন।
এখানকার অবকাঠামোগত অবস্থা বর্তমান যুগে এতটাই শোচনীয় ও অবহেলিত। অথচ দেশের সরকার ও আমাদের সমাজ প্রতিনিয়ত প্রত্যাশা করে যে, ঠিক এমন একটি অনুন্নত, ভগ্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই আমরা আমাদের নিয়মিত ও আন্তর্জাতিক মানের পড়াশোনা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাব, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব।"
তবে দেশজুড়ে এই চলমান তীব্র আন্দোলনের বিষয়ে জার্মানির সমগ্র শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে পুরোপুরি ঐকমত্যের যে একটি অভাব রয়েছে, তা-ও অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। জার্মানির অন্যতম বৃহৎ ও প্রভাবশালী জাতীয় শিক্ষার্থী সংস্থা ‘বিএসকে’ বর্তমানের এই চরম সহিংস হয়ে ওঠা আন্দোলন থেকে নিজেদের আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তারা রাজপথের এই ভাঙচুর ও লুটপাটের আন্দোলন থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে আগামী বিশে নভেম্বর সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্ত দাবি-দাওয়া নিয়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও পৃথক একটি বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, সার্বিয়া এবং ফ্রান্সে সম্প্রতি জেন জি বা নতুন প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বাধীন যে বিশাল গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, জার্মানির এই বিক্ষোভ মূলত তারই একটি সরাসরি ও অবধারিত ধারাবাহিকতা।
তবে ইউরোপের সর্ববৃহৎ এবং অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত জার্মানিতে এমন নজিরবিহীন ছাত্র ও তরুণ অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্যই একটি অত্যন্ত গভীর ও চিন্তার উদ্রেককারী সতর্কবার্তা।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে এবং একই সঙ্গে চলমান এই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দিয়ে জার্মানির নীতিনির্ধারকরা কীভাবে দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি এই তরুণ সমাজের হারানো আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনবে, তা-ই এখন বিশ্ব দরবারে সময়ের সবচেয়ে বড় ও কৌতূহলোদ্দীপক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।