ব্রাসেলস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, এই বিষয়গুলো সরাসরি তাদের এখতিয়ারভুক্ত এবং তাদের পাশ কাটিয়ে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে প্রণীত ২৮ দফার একটি প্রাথমিক শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপের অন্দরমহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, কিয়েভ ও ইউরোপকে আড়ালে রেখে তৈরি করা এই প্রস্তাবে মস্কোর স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ আটকানো এবং সেনাবাহিনীর আকার ছোট করার মতো বিতর্কিত শর্ত ছিল।
তবে রোববার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। অ্যাঙ্গোলার লুয়ান্ডায় এক বিশেষ বৈঠকের পর ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জানান, আলোচনায় নতুন গতি এসেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবে ইউরোপের উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আন্তোনিও কস্তা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "শান্তি প্রক্রিয়া হতে হবে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই, এটি কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি হতে পারে না। নিষেধাজ্ঞা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিধি বৃদ্ধি কিংবা জব্দকৃত রুশ সম্পদের মতো বিষয়গুলো সরাসরি ইইউ-এর নীতিমালার সাথে যুক্ত। তাই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইউনিয়নের পূর্ণ অংশগ্রহণ অপরিহার্য।"
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর আকার বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। রোববারের আলোচনার পর এই অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে এবং এখন কিয়েভের সম্মতি ছাড়া কোনো শর্ত চাপিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
মূল শান্তি প্রস্তাবে জব্দকৃত রুশ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যে ইঙ্গিত ছিল, তা ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। তারা যুক্তি দেখান যে, ইউক্রেনে রাশিয়া যে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই জব্দকৃত অর্থ ব্যবহার করা উচিত। জেনেভায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বীকার করেছেন যে, রুশ সম্পদের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং এটি ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই চুক্তি করতে হবে এমন কোনো কঠোর বাধ্যবাধকতা নেই; প্রয়োজনে আরও সময় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো হবে। ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় দাতা হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুদ্ধের শুরু থেকেই কিয়েভকে প্রায় ১৮৭ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রদান করেছে এবং প্রায় ৪০ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে।
তাই ইউরোপকে বাদ দিয়ে কোনো শান্তি চুক্তি হলে তা পুরো মহাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। লুয়ান্ডায় ইইউ নেতারা একাট্টা হয়ে ঘোষণা করেছেন যে, ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষা এবং ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য এবং এ ক্ষেত্রে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।