ইউক্রেনকে সহায়তা করার লক্ষ্যে রাশিয়ার আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যবহারের উপায় নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের চলমান বিতর্কের মধ্যেই মস্কোর পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল। মস্কোতে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে জাখারোভা বলেন, রাশিয়ার সম্মতি ছাড়া দেশটির সার্বভৌম সম্পদের ওপর যেকোনো পদক্ষেপ-হোক তা অনির্দিষ্টকালের জন্য জব্দ করা, বাজেয়াপ্ত করা কিংবা কথিত ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা-আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ব্রাসেলস এই কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে যতই তথাকথিত আইনি চাতুরীর আশ্রয় নিক না কেন, এটি দিনের শেষে প্রকাশ্য চুরি বা ডাকাতি ছাড়া আর কিছুই নয়।”এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেলজিয়াম-ভিত্তিক ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান ‘ইউরোক্লিয়ার’-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদের সিংহভাগই এই প্রতিষ্ঠানের কাছে গচ্ছিত রয়েছে।
জাখারোভা অভিযোগ করেন যে, ইইউ কেবল তাদের ‘ব্যর্থ ইউক্রেন প্রকল্পে’ অর্থায়ন করতেই এই সম্পদ ব্যবহার করতে চাইছে না, বরং পশ্চিমাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক ক্ষতি পোষাতেও এই অর্থের দিকে নজর দিয়েছে। রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে গিয়ে ইউরোপের অর্থনীতি নিজেরাই বাণিজ্যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করার এই প্রক্রিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ ফাটলও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া ইইউর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভেটো ক্ষমতা পাশ কাটাতে এবং সম্পদ জব্দের মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়াতে ইইউ তাদের জরুরি ক্ষমতা বা ‘ইমার্জেন্সি পাওয়ার’ ব্যবহার করেছে, যা সচরাচর দেখা যায় না।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে ব্রাসেলসকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়েছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে তারা “পরিকল্পিতভাবে ইউরোপীয় আইনকে ধর্ষণ করছে।” ‘পলিটিকো’-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতালি, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া এবং মাল্টা ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় কমিশনকে রাশিয়ার সম্পদ সরাসরি বাজেয়াপ্ত না করে কিয়েভকে ঋণ দেওয়ার বিকল্প পথ খোঁজার অনুরোধ জানিয়েছে।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার সম্পদ সরাসরি বাজেয়াপ্ত করা হলে তা ইউরোপীয় আর্থিক ব্যবস্থার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা নষ্ট করবে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ পুঁজি ইউরোপ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে (ক্যাপিটাল ফ্লাইট) এবং বেলজিয়াম বড় ধরনের আইনি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।