বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনার টানে দশ মাসে সতেরো দেশ পেরিয়ে সাইকেলে যুক্তরাষ্ট্রে তিন দুঃসাহসী ভক্ত

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

আর্জেন্টিনার টানে দশ মাসে সতেরো দেশ পেরিয়ে সাইকেলে যুক্তরাষ্ট্রে তিন দুঃসাহসী ভক্ত
ছবি : Collected

ফুটবল এবং প্রিয় দলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা মানুষকে কতটা দুঃসাহসী করে তুলতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আর্জেন্টিনার তিন ফুটবল অনুরাগী। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থন জোগাতে প্রায় দশ মাস ধরে সাইকেল চালিয়ে তাঁরা পৌঁছে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

 

দিনের হিসাবে প্রায় তিনশো দিন এবং দূরত্বের বিচারে সতেরো হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই অভাবনীয় যাত্রাপথে তাঁরা পাড়ি দিয়েছেন সতেরোটি দেশের সীমান্ত। বর্তমানে তাঁরা কানসাসে অবস্থান করছেন, যেখানে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের বেস ক্যাম্প স্থাপন করেছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল।

 

মিগেল সিলিও, ভিসেন্তে কনকুলিনি এবং ইয়ামানদু মার্তিনেজ নামের এই তিন সমর্থক গত বছরের আগস্ট মাসে তাঁদের এই রোমাঞ্চকর যাত্রা শুরু করেছিলেন। সে সময় ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার বেস ক্যাম্প কোথায় হবে, তা তাঁদের অজানা ছিল।

 

তবুও প্রিয় দলের পাশে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষাই তাঁদের এই কঠিন পথ পাড়ি দেওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে তাঁদের মুখোমুখি হতে হয়েছে নানাবিধ বিপদ ও প্রতিকূলতার।

 

ইকুয়েডরের মাচালা অঞ্চলে কারাগারের দাঙ্গার মতো সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিলেন তাঁরা। এমনকি কলম্বিয়াতে একটি মারাত্মক গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও তাঁরা খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন।

 

বিপদের পাশাপাশি এই যাত্রায় কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্তেরও সাক্ষী হয়েছেন এই তিন ভক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সান আন্তোনিও শহরে তাঁদের সাক্ষাৎ হয় আর্জেন্টিনার বাস্কেটবল কিংবদন্তি ইমানুয়েল জিনোবিলির সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়ের সূত্র ধরে জিনোবিলি তাঁদের আমন্ত্রণ জানান।

 

সেখানে একসঙ্গে কফি ও আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী পানীয় ‘মাতে’ পানের মধ্য দিয়ে তাঁরা প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটান। কানসাসে পৌঁছানোর পর তাঁদের এই দীর্ঘ পরিশ্রম সার্থক হয়।

 

ইতোমধ্যে তাঁরা আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি, তাঁর কোচিং স্টাফ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

 

এই তিন সমর্থকের ভূয়সী প্রশংসা করে ক্লদিও তাপিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এই রঙের জার্সির প্রতি এবং বিশেষ করে স্কালোনেতার প্রতি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ভালোবাসা ও উন্মাদনার কোনো সীমা বা সীমানা নেই। এই তিনজন তারই জীবন্ত উদাহরণ।’

 

এত বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছালেও এই তিন সমর্থকের সামনে এখন মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বকাপের টিকিট। ফিফার আনুষ্ঠানিক টিকিট বিক্রির পোর্টালে পাঁচবার চেষ্টা করেও তাঁরা কোনো টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি।

 

স্থানীয় একটি গণমাধ্যমকে কনকুলিনি জানিয়েছেন, পুনর্বিক্রয় বা রিসেল বাজারে টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই তাঁরা আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করে টিকিট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

তবে প্রথম ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তাঁরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হাজারো কিলোমিটারের এই অক্লান্ত যাত্রার পর শেষ পর্যন্ত তাঁরা গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।