শুধু নেতৃত্ব হারানোই নয়, ব্যাট হাতে চরম অফফর্মের কারণে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি দলেও তাঁর জায়গা এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর বরাতে বিসিসিআইয়ের এক শীর্ষ মুখপাত্র এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট চক্রের কথা মাথায় রেখে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচক কমিটির সুচিন্তিত পরামর্শে নতুন অধিনায়ক বেছে নেওয়ার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
ওই কর্মকর্তা জানান, প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের উপস্থিতিতে বিসিসিআই, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচক কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতের নতুন অধিনায়ক নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
সূর্যকুমারের নেতৃত্বে দল সদ্য বিশ্বকাপ জিতলেও, তাঁর দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিগত অফফর্ম এবং দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথা বিবেচনা করেই নীতিনির্ধারকেরা এই কঠিন পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন।
পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী এই তারকা ক্রিকেটার কেবল অধিনায়কত্বই হারাচ্ছেন না, বরং আসন্ন সিরিজের দল বাছাইয়েও তিনি আর বিবেচনায় থাকবেন না বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তটি খুব শিগগিরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।
আগামী ছাব্বিশে জুন থেকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং এরপর শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের একটি দীর্ঘ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। এই সিরিজগুলোর আগেই দলে এই বড় ধরনের রদবদল ঘটতে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ব্যাট হাতে দীর্ঘদিন ধরেই ধারাবাহিকতার তীব্র অভাবে ভুগছেন সূর্যকুমার। তাঁর গত দুই বছরের এই রানখরা সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও (আইপিএল) স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
টুর্নামেন্টের তেরোটি ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র ২০ দশমিক ২৭ গড়ে তিনি সংগ্রহ করেছেন ২৭০ রান, যেখানে হাফসেঞ্চুরি রয়েছে মাত্র একটি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর তৎকালীন অধিনায়ক রোহিত শর্মা এই সংস্করণ থেকে অবসরের ঘোষণা দিলে সূর্যকুমার যাদবের কাঁধে নেতৃত্বের গুরুভার তুলে দেওয়া হয়েছিল।
নিজের অফফর্ম ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার জবাবে গত মার্চ মাসে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ডানহাতি ব্যাটার ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
দলের প্রতি নিজের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, "যখন থেকে আমি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তখন থেকে আর নিজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিকে এককভাবে মনোযোগ দিইনি।
আমার সঙ্গে আরও চৌদ্দজন মানুষ আছেন, তাঁদের সমানভাবে দেখাটা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেহেতু দল ক্রমাগত জিতে চলেছে, তাই আমি জানতাম যে আমি সঠিক পথেই আছি এবং নিজে রান পাওয়ার ব্যাপারেও আমি প্রবল আশাবাদী।"
২০২৪ সালের বিশ্বকাপে সীমানার কাছে নেওয়া একটি ক্যাচ তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছিলেন যে, অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের এই অভাবনীয় সাফল্য তাঁর জীবনকে আবারও নতুন করে বদলে দিতে পারে।
তবে বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই নির্মম প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কেবল অতীত সাফল্যই যথেষ্ট নয়, বরং বর্তমান ফর্মও সমানভাবে অপরিহার্য।