তবে এই অবস্থানকে দলের জন্য এক ধরনের সুবিধাজনক পরিস্থিতি বা ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন সেলেসাওদের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। ২০০২ সালের পর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক ফুটবলের এই সর্বোচ্চ শিরোপা অধরা রয়ে গেছে দলটির।
এমনকি গত কয়েকটি আসরে তাদের ফুটবল যাত্রা কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারেনি। এবার যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রতিযোগিতায় ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে অংশ নিতে যাচ্ছে ব্রাজিল দল।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠেয় এই মেগা টুর্নামেন্টে বাজিকরদের মূল্যায়নে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন, সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে তারা।
গত মঙ্গলবার দলবলসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যাসেমিরো এই ভিন্নধর্মী ও কৌশলগত মন্তব্য করেন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই বর্ষীয়ান তারকা খেলোয়াড় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, কাগজে-কলমে ব্রাজিল এবার মূল ফেভারিট দল না হলেও তারা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমান ব্রাজিলিয়ান স্কোয়াডটি তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের এক চমৎকার ও ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। ক্যাসেমিরোর মতে, ফেভারিটের তালিকায় অন্য দলগুলোর চেয়ে এক ধাপ পিছিয়ে থাকাটা তাদের ওপর থেকে বাড়তি মানসিক চাপ অনেকাংশে কমিয়ে দেবে, যা টুর্নামেন্টে সতর্কভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সেলেসাওদের বেশ প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলে স্বীকার করেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এবং নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির নিয়োগকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর ও বাইরে যে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা পুরো প্রক্রিয়াকে বেশ জটিল করে তুলেছিল।
তবে এই কঠিন চক্র বা রূপান্তরকালীন সময়টি কাটিয়ে উঠে দল এখন পুরোপুরি খেলায় মনোনিবেশ করতে প্রস্তুত। অভিজ্ঞ কোচ আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিলের বর্তমান স্কোয়াডটি অত্যন্ত সুসংহত ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে দাবি করেন ক্যাসেমিরো।
তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কোচের অধীনে দল মাত্র এক বছর ধরে কাজ করলেও, সবাই মিলে একসঙ্গে অনুশীলনের জন্য মাত্র ৪০ দিনের মতো স্বল্প সময় পেয়েছেন।
তবে আনচেলত্তির দীর্ঘদিনের বিশ্বমানের ফুটবল কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং দলে থাকা প্রতিভাবান তরুণদের অদম্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিতে আশাবাদী। এবারের আসরে গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলবে মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ড।
আনচেলত্তির শিষ্যরা আগামী ১৪ জুন নিউজার্সিতে উত্তর আফ্রিকার শক্তিশালী দেশ মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর ২০ জুন হাইতি এবং ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে মাঠে নামবে ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলের ধারণা, ফেভারিটের চাপমুক্ত হয়ে খেললে ব্রাজিল তাদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলতে সফল হতে পারে।