বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতীত সাফল্য ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

অতীত সাফল্য ছাড়িয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া
ছবি : Collected

আসন্ন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করছে অস্ট্রেলিয়া। কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বমঞ্চের মাধ্যমে টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্যতম এই ফুটবল পরাশক্তি।

 

১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করা দলটি মাঝে দীর্ঘ বত্রিশ বছরের বিরতি দিয়ে ২০০৬ সালে পুনরায় নিজেদের জায়গা করে নেয়। এরপর থেকে প্রতিটি আসরেই তারা নিয়মিত মুখ।

 

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে পঁচিশতম স্থানে থাকা দলটি এর আগে ২০০৬ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছিল। এবার তাদের লক্ষ্য অতীতের সেই সাফল্যকে ছাপিয়ে আরও বহুদূর এগিয়ে যাওয়া।

 

দলের এই নতুন লক্ষ্যের নেপথ্যে রয়েছেন প্রধান কোচ টনি পোপোভিচ। একসময় জাতীয় দলের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলা পোপোভিচ দেশের হয়ে পঞ্চাশটিরও বেশি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

 

২০০৬ সালের বিশ্বকাপে দলকে দ্বিতীয় রাউন্ডে তোলার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দুই বছর পর খেলোয়াড়ি জীবন থেকে অবসর নিয়ে তিনি কোচিং পেশায় যুক্ত হন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে গ্রাহাম আর্নল্ডের বিদায়ের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন পোপোভিচ।

 

তার অধীনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চূড়ান্ত ধাপ সফলভাবে পার করেছে অস্ট্রেলিয়া। এবার খেলোয়াড় ও কোচ-উভয় ভূমিকাতেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিরল এক রেকর্ডের অংশ হতে যাচ্ছেন তিনি।

 

বিশ্বকাপের মূল পর্বে অস্ট্রেলিয়ার লড়াইয়ের পথটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ জুন, যেখানে ভ্যাঙ্কুভারে তাদের প্রতিপক্ষ তুরস্ক। এরপর ১৯ জুন সিয়াটলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ২৫ জুন সান ফ্রান্সিসকোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা।

 

এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে গোলরক্ষক ম্যাথিউ রায়ান এবং ফরোয়ার্ড ম্যাথিউ লেকির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর বিশেষ আস্থা রাখা হয়েছে। তারা দুজনেই দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দশটি করে ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন।

 

পাশাপাশি নেস্টরি ইরানকুন্ডা, ক্রিস্টিয়ান ভলপাটো এবং আজিজ বেহিচের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা দলের শক্তি আরও বৃদ্ধি করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস বেশ রোমাঞ্চকর এবং উত্থান-পতনে ভরপুর। এখন পর্যন্ত মোট সাতবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বিশটি ম্যাচ খেলেছে তারা।

 

এর মধ্যে তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় আসর ছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ। সেবারই প্রথম এক আসরে দুটি ম্যাচে জয়ের দেখা পায় তারা। তিউনিসিয়া এবং ডেনমার্ককে হারানোর পর শেষ ষোলোতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তুমুল লড়াই করে ২-১ ব্যবধানে বিদায় নেয় দলটি।

 

এছাড়া বিশ্বকাপে দলটির হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি টিম ক্যাহিলের দখলে, যিনি টানা তিন আসরে মোট পাঁচটি গোল করেছেন। ২০০৬ সালে জাপানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়টি তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এবার কোচ পোপোভিচের অধীনে সেই সোনালি অতীতকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে অস্ট্রেলিয়া।