বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও বাংলাদেশ

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও বাংলাদেশ
ছবি : Collected

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় আসর সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ এবং শক্তিশালী ভারত।

 

সেমিফাইনালের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্নায়ুক্ষয়ী বাধা পেরিয়ে শিরোপা নির্ধারণী এই চূড়ান্ত মহারণে নিজেদের জায়গা শক্তভাবে নিশ্চিত করেছে প্রতিবেশী এই দুই দেশ। আগামী শুক্রবার মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে পরস্পরের মোকাবিলা করবে তারা।

 

আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন ও ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এটি একটি দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হতে যাচ্ছে, কারণ গ্রুপ পর্বের তিক্ত অতীতকে সম্পূর্ণভাবে পেছনে ফেলে এবার চূড়ান্ত সাফল্যের স্বাদ পেতে মরিয়া লাল-সবুজের অদম্য প্রতিনিধিরা।

 

টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারতের নারী ফুটবল দল মুখোমুখি হয়েছিল লড়াকু ভুটানের। পুরো আসরে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবে থাকা ভারত শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে চরম আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়।

 

তবে, প্রথমার্ধে ভুটানের সুদৃঢ় ও সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের কারণে বারবার হতাশ হতে হয় তাদের। বেশ কয়েকটি পরিকল্পিত ও দুর্দান্ত আক্রমণ প্রতিপক্ষের গোলমুখে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে ব্যর্থ হয়ে যায়।

 

অবশেষে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে চমৎকার এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধারণ এক গোল করে দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন খেলোয়াড় ননগ্রুম। শেষ পর্যন্ত এই একমাত্র গোলের লিড অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে ধরে রেখে ফাইনালে নিজেদের আসন চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভারত।

 

অন্যদিকে, দিনের প্রথম সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালের বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের সাক্ষী হয় পুরো ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের ২৩তম মিনিটেই রক্ষণভাগের ভুলে অপ্রত্যাশিতভাবে গোল হজম করে চরম চাপে পড়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।

 

কিন্তু প্রবল মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়ে তারা দ্রুতই খেলায় ফিরে আসার চেষ্টা চালায়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার এক জাদুকরী ও দর্শনীয় ‘অলিম্পিক গোল’-এর সুবাদে মহামূল্যবান সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

 

এরপর দ্বিতীয়ার্ধেও উভয় দলের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে পুরো ম্যাচ জমজমাট ও উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হয়তো অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াবে, ঠিক তখনই অন্তিম মুহূর্তে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি আদায় করে নেন সাগরিকা।

 

এই অবিস্মরণীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার গৌরবময় অর্জন নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।

 

উল্লেখ্য, চলতি আসরের প্রথম পর্বে এই দুই সুযোগ্য ফাইনালিস্ট দল একই গ্রুপে একে অপরের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। সেই গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ভারতের অভিজ্ঞতার কাছে কৌশলগতভাবে পেরে ওঠেনি মারিয়া মান্দার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।

 

ওই হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ গ্রহণ করতে হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে সেমিফাইনালের এই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ও মানসিক দৃঢ়তা বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস এখন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

আগামী শুক্রবারের ফাইনালে গ্রুপ পর্বের সেই হারের বদলা নিয়ে ইতিহাস গড়ে শিরোপা নিজেদের করে নিতে মুখিয়ে থাকবে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। অন্যদিকে শক্তিশালী ভারত চাইবে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রেখে এই অঞ্চলে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব আরেকবার প্রমাণ করতে।