সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা অস্ট্রিয়া কি আজ আর্জেন্টিনার জন্য হুমকি হতে পারবে?

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা অস্ট্রিয়া কি আজ আর্জেন্টিনার জন্য হুমকি হতে পারবে?
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ফিফা বিশ্বকাপে ফিরেছে অস্ট্রিয়া। প্রত্যাবর্তনের শুরুটাও তারা করেছে স্বপ্নের মতো, জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে। আজ ডালাসে 'জে' গ্রুপের নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রাল্ফ রাংনিকের দল।

 

এই ম্যাচে যারা জয়ী হবে, তারাই সরাসরি নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করবে। তাই লিওনেল মেসিদের বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।

 

অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাস বেশ পুরোনো ও সমৃদ্ধ। ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নেওয়া দলটি ১৯৫৪ সালের আসরে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল, যা তাদের ইতিহাসের সেরা সাফল্য।

 

সেই আসরেই তারা চেকোস্লোভাকিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টি পেয়েছিল, যেখানে এরিখ প্রোবস্ট হ্যাটট্রিক করেছিলেন। প্রোবস্ট বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬ গোলের রেকর্ডধারী।

 

এবারের আগে সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলেছিল তারা। সেই আসরটি তাদের জন্য ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরপুর, কারণ প্রতিটি ম্যাচেই তারা দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে গোল করেছিল।

 

সব মিলিয়ে আটবার বিশ্বমঞ্চে অংশ নেওয়া অস্ট্রিয়া এখন পর্যন্ত ৩০টি ম্যাচ খেলে ১৩টিতে জয় পেয়েছে এবং ১৩টিতে হেরেছে, বাকি ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৩তম স্থানে থাকা দলটি একসময় তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য 'ওয়ান্ডার টিম' হিসেবে পরিচিত ছিল।

 

ফ্রেডরিখ কোনসিলিয়া ও ব্রুনো পেজির মতো কিংবদন্তিরা দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন। অস্ট্রিয়ার বর্তমান সাফল্যের অন্যতম কারিগর তাদের প্রধান কোচ রাল্ফ রাংনিক।

 

২০২২ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই অভিজ্ঞ জার্মান কোচ বিশ্ব ফুটবলে 'প্রেসিং' কৌশলের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। তার অধীনেই দলটি দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হতে পারেন ডেভিড আলাবা।

 

বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো শীর্ষ ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই তারকা খেলোয়াড় দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। তার সঙ্গে আছেন রোমানো স্মিডের মতো প্রতিভাবান মিডফিল্ডার, যিনি গত বুন্দেসলিগা মৌসুমে ৪টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন।

 

মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং গোল করার সুযোগ তৈরিতে তিনি দারুণ দক্ষ। অভিজ্ঞ মার্কো আরনাউটোভিচ এবং মার্সেল সাবিৎসারের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া এই দলটির আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী।

 

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস খুব বেশি দীর্ঘ নয়। মূলত প্রীতি ম্যাচেই তাদের দেখা হয়েছে এবং সর্বশেষ লড়াইটি হয়েছিল আজ থেকে ৩৬ বছর আগে, ১৯৯০ সালের মে মাসে। ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।

 

এর আগে ১৯৮০ সালের আরেকটি প্রীতি ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের একমাত্র আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনা ৫-১ গোলে অস্ট্রিয়াকে বিধ্বস্ত করেছিল। সেটি ছিল ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ম্যাচ এবং তিনি প্রথম ও শেষবারের মতো দেশের জার্সিতে এক ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন।

 

দুটি প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনা যেখানে ৬ গোল করেছে, অস্ট্রিয়া সেখানে মাত্র দুটি গোল করতে পেরেছে। তবে ১৯৬৬ সালের একটি অনানুষ্ঠানিক ম্যাচে অস্ট্রিয়া ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল।

 

দীর্ঘ বিরতির পর আজ আবার এই দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে অস্ট্রিয়া এবার অপরাজিত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কতটা কঠিন পরীক্ষা নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।