গোল্ডেন গোলে স্বপ্নভঙ্গের সেই ঐতিহাসিক যাত্রার পর, 'লায়ন্স অব তেরাঙ্গা' খ্যাত দলটি আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিতে প্রস্তুত। আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বারের মতো এবং সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশ।
৪৮ দলের এই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপকে নিজেদের অভিষেক আসরের মতোই সাফল্যমণ্ডিত ও স্মরণীয় করে রাখতে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়েই মাঠে নামবে তারা। সেনেগাল দলের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রার অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা তাদের প্রধান কোচ পাপে থিয়াউ।
২০০২ সালের সেই কিংবদন্তিতুল্য কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট দলের গর্বিত সদস্য ছিলেন তিনি। সেবার সুইডেনের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে অঁরি কামারার জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটিতে তার দারুণ সহায়তা ছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্থায়ীভাবে প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার অধীনে সেনেগাল দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। দলটির অপরাজিত থাকার ধারা অব্যাহত রয়েছে, যার প্রমাণ মেলে ২০২৫ সালের জুনে অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে হারানোর মতো অভাবনীয় সাফল্যে।
এর পাশাপাশি ডিসেম্বরে আফ্রিকান নেশন্স কাপের শিরোপা জয় দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে ১৪তম স্থানে থাকা সেনেগাল এবারের বিশ্বকাপে তাদের অভিযান শুরু করবে ১৬ জুন নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামে পরিচিত প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের বিপক্ষে।
এরপর একই মাঠে ২২ জুন নরওয়ে এবং ২৬ জুন টরন্টো স্টেডিয়ামে ইরাকের মোকাবিলা করবে তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত খেলা ১২টি ম্যাচের মধ্যে ৫টি জয় ও ৩টি ড্র নিয়ে সেনেগাল নিজেদের প্রমাণ করেছে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলো পর্যন্ত পৌঁছালেও ইংল্যান্ডের কাছে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে এবার তারা আরও বহুদূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বিশ্বকাপে সেনেগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটি প্রয়াত তারকা পাপা বুব্বা দিওপের দখলে, যিনি ২০০২ সালে তিনটি গোল করেছিলেন।
অন্যদিকে, কালিদু কুলিবালি, ইউসুফ সাবালি ও ইসমাইলা সার প্রত্যেকে সাতটি করে ম্যাচ খেলে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছেন, যেখানে অধিনায়ক কুলিবালি প্রতিটি মিনিট মাঠে থেকে তার অপরিহার্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
এবারের আসরের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে সেনেগাল তাদের সেরা তারকাদের সমাবেশ ঘটিয়েছে। গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ এদোয়ার্দ মেন্ডি, মোরি দিয়াও ও ইয়েভান ডিওফ।
রক্ষণভাগে অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির সাথে থাকছেন ইলাই কামারা, ক্রেপিন দিয়াত্তা, এল হাদজি মালিক দিয়ুফ, মুসা নিয়াখাতের মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়রা। মধ্যমাঠে লামিন কামারা, পাথে সিস, ইদ্রিসা গানা গেই এবং পাপে মাতার সারের মতো তারকারা দলের ভারসাম্য বজায় রাখবেন।
আর আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পরাস্ত করতে সাদিও মানে, নিকোলাস জ্যাকসন, ইসমাইলা সার ও ইলিমান নিয়ায়ের মতো দুর্দান্ত ফরোয়ার্ডরা প্রস্তুত রয়েছেন। সব মিলিয়ে তারকায় ঠাসা সেনেগাল দল এই বিশ্বকাপে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায় রচনা করতে বদ্ধপরিকর।