সোমবার, জুন ৮, ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজারিওর বিস্ময়বালক থেকে বিশ্বজয়ের রূপকথা, বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির অমরত্বের মহাকাব্য

আর এন এস স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

রোজারিওর বিস্ময়বালক থেকে বিশ্বজয়ের রূপকথা, বিশ্বমঞ্চে লিওনেল মেসির অমরত্বের মহাকাব্য
ছবি: Collected

আর্জেন্টিনার সান্তা ফে প্রদেশের ছোট্ট শহর রোজারিও। একসময় মার্কসবাদী বিপ্লবী চে গুয়েভারার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত এই শহরটিকে বিশ্বের দরবারে নতুন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন লিওনেল মেসি।

 

১৯৮৭ সালে জন্ম নেওয়া এই বিস্ময়বালক শৈশবে শারীরিক গঠনজনিত জটিলতায় ভুগলেও, নিজ প্রতিভার জোরে আজ তিনি সর্বকালের সেরাদের কাতারে। মাত্র তেরো বছর বয়সে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে জন্মভূমি ছাড়লেও, শেকড়ের টান তাকে সবসময় রোজারিওর সঙ্গেই বেঁধে রেখেছে।

 

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে নিজেকে কিংবদন্তিদের একদম চূড়ায় নিয়ে গেছেন এই জাদুকর। পেশাদার ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব অর্জনের পর অনেকেই ভেবেছিলেন কাতারেই হয়তো তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক যাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।

 

কিন্তু মাঠের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং কোটি ভক্তের প্রত্যাশা তাকে আগামী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের দিকেও টেনে নিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই আসরটি হতে পারে তার ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ।

 

২০০৬ সালে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে তার প্রথম আগমন ঘটেছিল। এরপর ২০১০ সালে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার অধীনে তিনি দলের মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করেন।

 

যদিও সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী জার্মানির কাছে হেরে তাদের বিষাদময় বিদায় নিতে হয়েছিল। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে মেসি যেন একাই পুরো দলকে টেনে নিয়েছিলেন।

 

দুর্দান্ত নৈপুণ্যে দলকে ফাইনালে তুললেও মারাকানা স্টেডিয়ামে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপার খুব কাছ থেকে ফিরতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সেবার ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জন্য সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেও কাঙ্ক্ষিত শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ তাকে গভীরভাবে পুড়িয়েছিল।

 

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপেও দলগত ব্যর্থতায় ফ্রান্সের কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে স্নায়ুচাপের ম্যাচে করা তার দুর্দান্ত গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে আজও বিবেচিত হয়।

 

অতঃপর আসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ, যা মেসি ও আর্জেন্টিনার জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক অমর রূপকথার জন্ম দেয়। সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হার দিয়ে শুরু হলেও, মেক্সিকো ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় দিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়ায়।

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের ক্যারিয়ারের হাজারতম ম্যাচে নকআউট পর্বে প্রথম গোলের দেখা পান এই মহাতারকা। নেদারল্যান্ডস ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ফাইনালে পৌঁছায় স্কালোনির শিষ্যরা।

 

লুসাইল স্টেডিয়ামে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা ফাইনালে ফ্রান্সকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে দীর্ঘ ছত্রিশ বছরের শিরোপা খরা ঘোচায় দলটি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে দুবার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা মেসি এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ ছাব্বিশটি ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপে তেরোটি গোল এবং বহু জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দিয়ে এই ফুটবল জাদুকর আসলেই যেন অমরত্বের খাতায় নিজের নাম চিরস্থায়ী করে নিয়েছেন।