এই দাপুটে বিজয়ের মাধ্যমে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ইংলিশরা। ম্যাচের শেষ ইনিংসে জয়ের জন্য ২৫৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ব্রিটিশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের মুখে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয় নিউজিল্যান্ড।
মূলত ম্যাচের তৃতীয় দিনেই সফরকারীদের টপ-অর্ডার ধসে পড়ে, যার ফলে মাত্র ৫৫ রান তুলতেই তারা প্রথম সারির ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। খেলার চতুর্থ দিনে আজ রবিবার ম্যাচ বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে ব্যাটিং শুরু করে নিউজিল্যান্ড।
তবে দিনের শুরুতেই ব্যক্তিগত রানের খাতা বড় করার আগেই সাজঘরে ফিরে যান উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান টম ব্লান্ডেল। তাঁর বিদায়ে মাত্র ৫৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে চূড়ান্ত পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে কিউইরা।
এই ক্রান্তিলগ্নে দলের হাল ধরেন ওপেনার ডেভন কনওয়ে এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস। সপ্তম উইকেটের এই জুটিতে তাঁরা অত্যন্ত ধৈর্যশীল ব্যাটিং প্রদর্শন করে দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালান।
দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে আরও ৫৩ রান যোগ করে ব্যবধান কিছুটা কমিয়ে আনেন। তবে ইংলিশ বোলারদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে এই প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি।
দলীয় স্কোরবোর্ড কিছুটা সচল রাখার পর ৯১ বলে ৪১ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে কনওয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে নিউজিল্যান্ডের শেষ আশাটুকুও ম্লান হয়ে যায়।
কনওয়ের বিদায়ের পর উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রাখা গ্লেন ফিলিপসকে একা ফেলে একে একে বিদায় নেন নাথান স্মিথ, কাইল জেমিসন এবং ম্যাট হেনরি। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৪৪ রান করে ফিলিপস অপরাজিত থাকলেও অপর প্রান্তে সতীর্থদের ব্যর্থতায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস অল্প রানেই গুটিয়ে যায়।
ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ও ত্রাস সৃষ্টিকারী বোলার ছিলেন গাস আটকিনসন। তিনি মাত্র ১১ দশমিক ৩ ওভার বল করে ৩০ রান প্রদানের বিনিময়ে একাই ৫টি উইকেট শিকার করে কিউইদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
এছাড়া দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন করে ওলে রবিনসন ও জশ টাং প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট লাভ করেন এবং দলের পক্ষে বাকি একটি উইকেট নেন অধিনায়ক বেন স্টোকস।
এর আগে লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে পারেননি এবং মাত্র ১৪০ রানেই তাদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায়।
তবে প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতা ভুলে ইংলিশ বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। তাঁদের নিখুঁত ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস মাত্র ১১৩ রানে শেষ হলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় স্বাগতিকরা।
এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বেন স্টোকসের দল সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, যার ফলে নিউজিল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য সর্বমোট ২৫৪ রানের একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। শেষ পর্যন্ত আটকিনসনের অনন্য বোলিং নৈপুণ্যে সেই লক্ষ্য পাড়ি দিতে ব্যর্থ হয়ে বড় ব্যবধানে হার মানতে বাধ্য হয় নিউজিল্যান্ড।