তিনি অভিযোগ করেছেন, সামরিক ফ্রন্টে চরম ব্যর্থতা এবং গভীর অপমানের শিকার হয়ে এই দুই শত্রু রাষ্ট্র এখন তেহরানের বিরুদ্ধে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বা বহুমাত্রিক যুদ্ধ শুরু করেছে।
তাদের এই অভিনব ও সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত নস্যাৎ করতে তিনি ইরানের আপামর জনগণকে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সাঁইত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানী তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইমাম খোমেনির ঐতিহাসিক সমাধিসৌধে আয়োজিত এই স্মরণসভায় লাখ লাখ সাধারণ মানুষ ও ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত সমাগম ঘটে।
এই বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশে দেওয়া ওই লিখিত বার্তায় খামেনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ‘নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা’ কোনোভাবেই একটি শক্তিশালী, আত্মনির্ভরশীল ও স্বাধীন ইরানকে মেনে নিতে পারছে না।
পশ্চিমা বিশ্বের এই আধিপত্যবাদী নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি ইসরায়েলকে এই নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার একটি ‘মনগড়া ঘাঁটি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষার জন্যই এই অবৈধ রাষ্ট্রটির জন্ম দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনি তাঁর ভাষণে শত্রুদের বর্তমান যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করে দেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, সামরিক শক্তিতে পরাস্ত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরমভাবে অপমানিত হওয়ার পর শত্রুরা এখন মনস্তাত্ত্বিক ও হাইব্রিড যুদ্ধের মাধ্যমে তাদের পরাজয়ের ক্ষতিপূরণ করতে চাইছে।
এই নয়া ষড়যন্ত্রের প্রধান হাতিয়ার বা অস্ত্র হিসেবে তারা সাধারণ মানুষের মনে সরকারের প্রতি সন্দেহ, ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা, অজানা ভয় এবং সামাজিক বিভাজনের বীজ বপন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর মাধ্যমে তারা ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে দুর্বল করতে চায় বলে তিনি মনে করেন। দেশবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে ইরানের এই সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের অভ্যন্তরে এমন যেকোনো বক্তব্য প্রদান বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা, যা সাধারণ জনগণের মধ্যে অহেতুক হতাশা, অসন্তোষ বা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে, তা চূড়ান্ত বিচারে পরোক্ষভাবে শত্রুদের হীন উদ্দেশ্যকেই সফল করতে সাহায্য করে।
তাই জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই সংকটময় মুহূর্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অবিচল ঐক্যের পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।