বৃহস্পতিবার, পবিত্র ঈদুল গাদির, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির সাঁইত্রিশতম মৃত্যুবার্ষিকী এবং একই সঙ্গে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্ব গ্রহণের বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় তিনি এই কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে তাঁর এই বার্তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সর্বোচ্চ নেতা তাঁর লিখিত বার্তায় সুস্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, প্রত্যক্ষ যুদ্ধক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থতা ও চরম হতাশার পর ইসরায়েলি প্রশাসন এবং তাদের আন্তর্জাতিক মিত্র ও সমর্থকেরা এখন তেহরানের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছে।
তাদের বর্তমান হীন লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে পরীক্ষিত ইরানি জনগণের সুদৃঢ় মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করা।
দেশবাসীর প্রতি কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, শত্রুদের এই নতুন ও অশুভ চক্রান্তের প্রধান হাতিয়ার হলো সুকৌশলে সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভিত্তিহীন সন্দেহ, অজানা ভয়, গভীর হতাশা, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চরম সামাজিক বিভেদ ছড়িয়ে দেওয়া।
শত্রুদের এই বহুমাত্রিক ও মনস্তাত্ত্বিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার লক্ষ্যে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সমগ্র ইরানি জাতিকে নিশ্ছিদ্র ঐক্য, পারস্পরিক অবিচল বিশ্বাস, রাজনৈতিক সতর্কতা এবং অটুট জাতীয় সংহতি বজায় রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।
পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জন ও তা ক্রমাগত বৃদ্ধি করা তাঁদের অন্যতম প্রধান ও পবিত্র দায়িত্ব।
এমন কোনো অবিবেচনাপ্রসূত কাজ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে তাঁদের আবশ্যিকভাবে বিরত থাকতে হবে, যা জনমনে সামান্যতম হতাশা বা সামাজিক অসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যক্ত করেন যে, ইরানি জাতি তাদের অদম্য প্রতিরোধ সক্ষমতা ও ঐক্যের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বের স্বাধীনতাকামী ও মুক্তিকামী মানুষের কাছে আজ এক অনন্য অনুপ্রেরণা ও গর্বের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও শোকাবহ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের মতো বেদনাবিধুর ঘটনার পরও ইরানি জাতি ইসলামী বিপ্লবের প্রতি তাদের অবিচল সংকল্প ও গভীর অঙ্গীকার পুনরায় বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছে।
লাখো জনতা দেশের ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার সুরক্ষা, মহান শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের প্রতি অকৃত্রিম সম্মান প্রদর্শন এবং বিপ্লবের মূল আদর্শ বাস্তবায়নে আজও পাহাড়ের মতো অটল ও অবিচল রয়েছে।
দেশের ভেতরে যেকোনো ধরনের বিভেদমূলক বা হতাশাজনক কাজ চূড়ান্ত বিচারে কেবল শত্রুদের স্বার্থকেই চরিতার্থ করবে বলে তিনি পুনরায় সতর্ক করে দেন।
পরিশেষে, তিনি দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ, দূরদর্শী বুদ্ধিজীবী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতি এক বিশেষ আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা ইমাম খোমেনির কালজয়ী দর্শন ও ইসলামী বিপ্লবের মহান নীতিগুলো সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিতে নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।