বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৈরুতে মধ্যপ্রাচ্যে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে, হুঁশিয়ারি ইরানের

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

বৈরুতে মধ্যপ্রাচ্যে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে, হুঁশিয়ারি ইরানের
ছবি: Collected

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালানো হলে তেহরান আর নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, বৈরুতের ওপর যেকোনো আগ্রাসন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে।

 

এর পরিণতিতে ওই অঞ্চলে ফের একটি সর্বাত্মক ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রবল শঙ্কা তৈরি হবে। গত বুধবার লেবাননভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই উদ্বেগজনক মন্তব্য করেন।

 

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাক্ষাৎকার প্রদানকালে আব্বাস আরাঘচি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে দেন যে, তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার অবসান কেবল তখনই ঘটবে, যখন লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সব ধরনের সামরিক হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে।

 

তিনি জোরালো দাবি জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননের স্বার্থকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে, ওই অঞ্চলে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লেবানন থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার কোনো বিকল্প নেই।

 

প্রসঙ্গত, গত মার্চের শুরু থেকেই লেবাননের সীমান্তবর্তী ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক এবং তীব্র সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েল, যা পরিস্থিতিকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

 

অন্যদিকে, এমন উত্তেজনাকর ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝেই ইসরায়েল ও লেবানন শর্তসাপেক্ষে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর দেশ দুটি এই চুক্তিতে পৌঁছায়।

 

বৈঠক শেষে প্রকাশ করা এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এই নবগঠিত যুদ্ধবিরতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন মূলত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।

 

এই চুক্তির অন্যতম প্রধান ও কঠিন শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে ইসরায়েলের ওপর তাদের সব ধরনের সামরিক হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে গোষ্ঠীটির সব সশস্ত্র সদস্যকে সরিয়ে নিতে হবে।

 

চুক্তির কাঠামোগত অংশ হিসেবে উভয় দেশ লেবাননের ভেতরে কিছু সুনির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় ঐকমত্যে পৌঁছেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলো সম্পূর্ণরূপে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর একক ও নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে এবং সেখানে রাষ্ট্রবহির্ভূত কোনো পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে এবং এটি আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

 

কারণ, হিজবুল্লাহ ইতিমধ্যে একাধিকবার অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার এই শর্তযুক্ত যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে কোনোভাবেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলতে তারা নীতিগতভাবে বাধ্য নয়।

 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি সম্পূর্ণ শর্তহীন ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ কোনো অবস্থাতেই তাদের সামরিক লড়াই বন্ধ করবে না।

 

- ইত্তেফাক