আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা অ্যামব্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আকস্মিক এই হামলায় জাহাজটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ওমানের সোহার বন্দর থেকে উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে এই ঘটনা ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রসীমায় নতুন করে চরম নিরাপত্তা উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, পালাউয়ের পতাকাবাহী ওই রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারটির ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজটির নাম ‘সেটেবেল্লো’।
জাহাজটি থেকে জরুরি বিপদ সংকেত পাওয়ার পর ওমানের নৌবাহিনী দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। জাহাজ-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম মেরিনট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেটেবেল্লো নামের এই জাহাজটি আংশিক মালামাল বোঝাই ছিল এবং সবশেষ গত ১ জুন ওমান উপকূলের কাছে এটিকে শনাক্ত করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল, তবে তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে ধারণা করছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধের অংশ হিসেবেই এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।
সাধারণত এ ধরনের অভিযানের আগে জাহাজের ক্রু বা কর্মীদের সুরক্ষার স্বার্থে নৌযানের সম্মুখভাগে জড়ো হওয়ার জন্য এক ধরনের বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে পেছনের অংশে আঘাত করা হয়।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এর জবাবে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে ইরানের বন্দরসংশ্লিষ্ট সমস্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বিশেষ অবরোধের অংশ হিসেবে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন অমান্যকারী অন্তত সাতটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে।
এই দীর্ঘ সময়ে তারা অন্তত ১৩৪টি বাণিজ্যিক জাহাজকে তাদের নির্ধারিত রুট বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য করেছে এবং কেবল মানবিক সহায়তাবিশিষ্ট ৪২টি জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের বিশেষ অনুমতি প্রদান করেছে।
এর আগে গত সোমবার ওমান উপসাগরে ইরানি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি খালি তেল ট্যাঙ্কারকেও মার্কিন বাহিনী অচল করে দেয়। ওমান উপকূলের এই সর্বশেষ হামলাটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।