শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বাঘের গালিবাফ

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জেরে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন বাঘের গালিবাফ
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আগ্রাসন এবং বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবার কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট বা আইনসভার স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটন যদি তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার ধারা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরানও তাদের নিজস্ব পরিচিত ভাষায় এর মোক্ষম জবাব দেবে।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের এই শীর্ষ রাজনীতিবিদের এমন কড়া বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হুঁশিয়ারি মূলত কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে সরাসরি সামরিক বা কঠোর পদক্ষেপের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় মোহাম্মদ বাকের কলিবফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এই কঠোর বার্তা দেন।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলিবফ তার বার্তায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিছু কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন, ইরান সবসময়ই শান্তি ও কূটনীতির ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

 

তবে এর অর্থ এই নয় যে, তারা অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতে পারে না। স্পিকার জোর দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে অন্যান্য ভাষায় ইরান আরও অনেক বেশি সাবলীল এবং পারদর্শী।

 

তার এই বক্তব্য থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক বা আগ্রাসী পথ বেছে নেয়, তবে ইরানও সমপরিমাণ শক্তিমত্তার সঙ্গে তার মোকাবিলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ তুলে ইরান বারবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

 

তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন একদিকে বিশ্বমঞ্চে শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের ইন্ধন যুগিয়ে ক্রমাগত আগ্রাসী আচরণ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার কলিবফ তার বার্তায় আরও যুক্ত করেন যে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পরিণতি কখনোই কোনো পক্ষের জন্য সুখকর হতে পারে না।

 

যদি আপনারা চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক সমঝোতার সম্মান রক্ষা করতে বারবার ব্যর্থ হন, তবে আমরাও আমাদের সবচেয়ে পরিচিত ভাষাতেই আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য হব।

 

তিনি মনে করিয়ে দেন, এটি এমন এক ভাষা, যার প্রয়োগ ও পরিণতি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের খুব ভালোভাবেই ধারণা রয়েছে। নিজের বক্তব্যের শেষ অংশে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রবাদতুল্য বাক্য ব্যবহার করেছেন মোহাম্মদ বাকের কলিবফ।

 

তিনি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা শেষ পর্যন্ত সেই ঘোড়াতেই চড়তে বাধ্য হবেন, যে ঘোড়ার পিঠে আপনারা নিজেরাই জিন চাপিয়েছেন।

 

সহজ কথায়, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের তৈরি করা সংঘাতময় ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার এবং এর চরম পরিণতি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই ভোগ করতে হবে।

 

আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের স্পিকারের এই কঠোর বক্তব্য কেবল একটি সাধারণ রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং এটি তেহরানের চরম ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার একটি সুস্পষ্ট ও ভয়াবহ ইঙ্গিত।

 

এমন পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও হুমকি-ধমকির ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো আরও একবার বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

 

- পার্সটুডে