শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিগগিরই বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হবে ইরানের বিজয়ের বার্তা, ইরানি সামরিক কর্মকর্তা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

শিগগিরই বিশ্বজুড়ে প্রতিধ্বনিত হবে ইরানের বিজয়ের বার্তা, ইরানি সামরিক কর্মকর্তা
ছবি : Collected

বিশ্ববাসী খুব শিগগিরই ইরানের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিধ্বনি এবং প্রতিরোধ শক্তির অভাবনীয় সাফল্য চাক্ষুষ করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি।

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলকে একটি চরম ‘আগ্রাসী শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে যখন একের পর এক সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, ঠিক সেই জটিল মুহূর্তে ইরানের শীর্ষ সামরিক পর্যায় থেকে আসা এই বার্তা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশের খ্যাতিমান সামরিক ব্যক্তিত্ব মেজর জেনারেল গোলামআলি রশিদ এবং তার সন্তান আমিন আব্বাস রশিদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ স্মরণসভায় লিখিত বার্তা পাঠান মেজর জেনারেল আবদোল্লাহি।

 

ওই বার্তাতেই তিনি দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি গভীরভাবে উল্লেখ করেন যে, সামরিক ব্যক্তিত্ব রশিদ ও তার সন্তানের অকাল প্রয়াণ সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি অধ্যায় হলেও, এই মর্মান্তিক ক্ষতি মূলত দেশের অটুট প্রতিরোধক্ষমতা এবং জাতীয় শক্তির ভিত্তি কতটা মজবুত, সেটিই বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে প্রমাণ করেছে।

 

পশ্চিমা বিশ্ব এবং ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে শত্রুপক্ষের উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা অত্যন্ত কড়া ও দ্ব্যর্থহীন ভাষা ব্যবহার করেন। তার মতে, দুর্বল ও লোভী শত্রুরা ভ্রান্তভাবে বিশ্বাস করেছিল যে, গুপ্তহত্যার মতো হীন উপায়ে ইরানের শ্রেষ্ঠ সামরিক কৌশলবিদদের শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সংকল্প এবং জাতীয় ঐক্যে বড় ধরনের ফাটল ধরানো সম্ভব হবে।

 

কিন্তু তারা এই ঐতিহাসিক সত্যটি অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে যে, শহীদ রশিদ তার জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক নেতাদের জন্য পেশাদার জ্ঞান, রণাঙ্গনের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সুদূরপ্রসারী কৌশলগত চিন্তাধারার এক অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, যা কোনো দিন মুছে ফেলা বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়।

 

বর্তমান সময়ের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়েও মেজর জেনারেল আবদোল্লাহি তার সুস্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, শহীদ রশিদের দেখিয়ে যাওয়া সেই অসামান্য কৌশলগত পথ অনুসরণ করেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তাদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

শত্রুপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তথাকথিত ‘জটিল হাইব্রিড ও জ্ঞানগত যুদ্ধ’ মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিনিয়ত অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে চলেছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সামরিক কর্মকর্তার এমন আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য মূলত তেহরানের আপসহীন ভূরাজনৈতিক মনোভাব এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক বা কৌশলগত পরিস্থিতি প্রবল দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলার চূড়ান্ত প্রস্তুতিরই একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে।

 

মিডল ইস্ট আই