শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য তেতো বড়ি

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

ট্রাম্পের ইরান চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য তেতো বড়ি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে ওয়াশিংটনের আসন্ন সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে, যা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও তিক্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

 

দীর্ঘ সময় ধরে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব ঠেকাতে কঠোর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছিলেন নেতানিয়াহু।

 

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক ও একক কূটনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ তেল আবিবের জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন তেহরানের সাথে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সাথে এক জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন।

 

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এই চুক্তির রূপরেখা বা এর অন্তর্নিহিত শর্তাবলি সম্পর্কে ইসরাইলকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি, যা দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যকার সমন্বয়হীনতাকে স্পষ্ট করে তোলে।

 

চুক্তির বিষয়ে ইসরাইলের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া তেল আবিবের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।

 

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই গ্রহণ করেন, নেতানিয়াহু নয়।

 

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এই চুক্তির শর্তানুযায়ী ইরানকে তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা দেশের বাইরে সরিয়ে ফেলতে হবে।

 

এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে রাজি হতে হবে তেহরানকে। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ ও জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় চব্বিশ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত তহবিল অবমুক্ত করা হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতামূলক অবস্থানে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। মার্কিন সহযোগিতার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে তারা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

 

তেল আবিবের নীতিনির্ধারকদের মতে, ওয়াশিংটন এখানে কেবল নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনা করছে, কিন্তু ইরানের সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকি এবং ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় নিরাপত্তা এখানে চরমভাবে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

 

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত হওয়ার সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এই অতি-আকস্মিক নীতি পরিবর্তন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দীর্ঘদিনের নিবিড় ও কৌশলগত কূটনৈতিক সম্পর্কের ফাটলকে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে উন্মোচিত করেছে।

 

- অ্যাক্সিওস