তবে রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে জানিয়েছে, মোহসেন রেজায়ির মতে, ট্রাম্প প্রশাসন গোপনে ইরানের অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।
কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তারা প্রকাশ্যে এই চুক্তির কথা স্বীকার করতে সম্পূর্ণ নারাজ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে এই জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন যে, মার্কিন জাতি আজ কার্যত ইসরায়েলের একটি উপনিবেশে পরিণত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করেই তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও কৌশলগত প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে দৃঢ়তার সাথে বলেন, তেহরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা বর্তমানে এমন এক অভাবনীয় ও শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো আগ্রাসী নেতৃত্বও এখন ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে ভয় পাচ্ছেন।
তাকে একজন ‘জুয়াড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটার মূল কারণ হলো রণাঙ্গনে ইরানের দৃশ্যমান ও পরীক্ষিত সামরিক শক্তিমত্তা।
ইরানের সামরিক সফলতার অভাবনীয় চিত্র তুলে ধরে মোহসেন রেজায়ি দাবি করেন যে, বিশ্বে ইরানই একমাত্র এবং প্রথম রাষ্ট্র, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং অ্যাওয়েকস যুদ্ধবিমান সফলভাবে ধ্বংস করার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
এটি বিশ্বমঞ্চে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অসীম সক্ষমতার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা বহন করে, যা পশ্চিমা বিশ্বকে নতুন করে সামরিক হিসাব-নিকাশ করতে বাধ্য করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে তিনি ‘অসম যুদ্ধ’ পদ্ধতিকে তাদের অন্যতম প্রধান সামরিক উদ্ভাবন ও উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
রেজায়ির মতে, এই অসম সমীকরণের যুদ্ধে মাত্র কয়েক হাজার ডলার ব্যয়ে তৈরি ড্রোন দিয়ে শত্রুপক্ষের কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে খুব সহজেই পরাস্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
একইসাথে, অত্যন্ত সস্তা ও দ্রুতগামী স্পিডবোট ব্যবহার করে গভীর সাগরে ভাসমান কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের সুসজ্জিত ও দানবীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কার্যকর মোকাবেলা করার সক্ষমতাও ইরান ইতিমধ্যে অর্জন করেছে।
পরিশেষে এই সামরিক কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, এই অভিনব যুদ্ধকৌশল এবং অদম্য সামরিক প্রতিরোধ বিশ্বমঞ্চে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শক্তিমত্তায় এক যুগান্তকারী বিপ্লবের সূচনা করেছে।
যদি রণাঙ্গনে এই ধরনের সাহসী ও সফল সামরিক পদক্ষেপগুলো না ঘটত, তবে বিশ্বের বহু মানুষ এবং পরাশক্তিগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আপামর জাতির প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা, অটুট প্রতিরোধ স্পৃহা এবং বিশ্বরাজনীতিতে তাদের কৌশলগত কর্তৃত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি অজানা থেকে যেত। তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান উত্তেজনার পারদকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।