তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন তিনি ইসরায়েলের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকবেন, ততদিন ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে পারবে না।
সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জল্পনাকল্পনা চলছে, ঠিক সেই স্পর্শকাতর মুহূর্তেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বনামধন্য কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত এক বিস্তারিত বিবৃতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের এই সংবেদনশীল ইস্যুতে তিনি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেন।
নেতানিয়াহু অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, অবিচল ভূমিকা ও ধারাবাহিক কঠোর প্রতিরোধ না থাকলে ইরান হয়তো অনেক আগেই ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক বোমার মালিক হয়ে যেত।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নিজ দেশের নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি তার বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তিনি যতদিন দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে আসীন থাকবেন, ততদিন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলে চিরবৈরী রাষ্ট্র ইরানকে এই ভয়াবহ সামরিক সক্ষমতা অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
তার এই মন্তব্যকে ইরানের প্রতি এক ধরনের প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল যে, দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে আনতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে শিগগিরই হয়তো তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক মহলে যখন এমন একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে গুঞ্জন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য ও কঠোর হুঁশিয়ারি সামনে এল।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যেকোনো ধরনের ভবিষ্যৎ সমঝোতার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের এই দৃশ্যমান আপসহীন অবস্থান একটি বড় প্রভাবক বা বাধা হিসেবে কাজ করতে পারে।
একই সঙ্গে, চুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই অনড় ও কঠোর মন্তব্য আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে গভীরভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।