ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতি রাতে ইরান থেকে লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বের করে নিয়ে আসছে।
তাঁর মতে, এই চরম গোপনীয় ও বিশেষ পদক্ষেপের কারণেই বর্তমানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই চাঞ্চল্যকর ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বক্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে, মার্কিন প্রশাসন সুপরিকল্পিতভাবে ইরান থেকে প্রতি রাতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল সরিয়ে নিচ্ছে, যার পরিমাণ সত্যিই লক্ষাধিক ব্যারেল।
তিনি আরও দাবি করেন, এই বিশেষ অভিযানের ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বর্তমানে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিশাল পরিমাণ তেল বাজারজাত করা না হলে আজ বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকত।
কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ ভূমিকার কারণে তেলের দাম বর্তমানে ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, তিনি বিশ্বজুড়ে তেলের মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর এবং মার্কিন নাগরিকদের স্বস্তি দেওয়ার পুরো কৃতিত্ব নিজের প্রশাসনের এই কথিত অভিযানের ওপর দিতে চাচ্ছেন।
প্রকৃতপক্ষে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এর ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কোণঠাসা ও চরম চাপের মুখে পড়েছে। দেশের বিরোধী দলগুলোর লাগাতার সমালোচনা এবং অর্থনৈতিক এই অস্থিরতার মধ্যে নিজের অবস্থান সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের এই অত্যন্ত গোপন ও স্পর্শকাতর খবর প্রকাশ্যে আনলেন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি মার্কিন নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান হওয়া মাত্রই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ পূর্ণ স্বস্তি পাবে।
তবে আন্তর্জাতিক কড়া নিষেধাজ্ঞা ও চরম সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান থেকে ঠিক কীভাবে, কোন রুটে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই বিপুল পরিমাণ তেল প্রতি রাতে সরানো হচ্ছে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কৌশলগত কারণে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।