বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমিরাতে ওয়ার্ক পারমিট নিয়মে যুগান্তকারী সংস্কার

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

আমিরাতে ওয়ার্ক পারমিট নিয়মে যুগান্তকারী সংস্কার
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য এক যুগান্তকারী সুখবর নিয়ে এসেছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় শ্রমবাজারকে আরও বেশি গতিশীল, দক্ষ এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যে ওয়ার্ক পারমিট বা কর্মসংস্থান অনুমতি প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার সাধন করেছে।

 

সরকারের ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’ বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, মূলত তার আওতায় এই সময়োপযোগী উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে আমিরাতের শ্রমবাজার বিশ্বের বুকে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজেশনের এই নতুন ধাপে এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এবং কোনো ধরনের বাড়তি নথিপত্র বা সহায়ক কাগজপত্রের প্রয়োজন ছাড়াই শতভাগ কাগজবিহীন উপায়ে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।

 

নির্দিষ্ট কিছু পারমিটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা পঁচাত্তর থেকে সাতানব্বই শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আগের চেয়ে বহুগুণ দ্রুত এবং সহজতর হবে।

 

এই নতুন সংস্কারের কার্যকারিতা যাচাই করতে এবং সাধারণ মানুষের মতামত জানতে মন্ত্রণালয় আগামী ত্রিশে জুলাই পর্যন্ত একটি অনলাইন ভিত্তিক গণপরামর্শ কার্যক্রমও চালু রেখেছে।

 

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন নিয়োগকর্তা ও কর্মীরা ঘরে বসেই অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে প্রয়োজনীয় সব আবেদন করতে পারবেন, যা বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

 

নতুন এই নীতিমালার অধীনে বিভিন্ন খাতের বহুমুখী চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় সর্বমোট তেরো ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দুই বছর মেয়াদি ‘বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট’, যার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন কর্মীদের আমিরাতে নিয়ে আসা যাবে।

 

পাশাপাশি আমিরাতের ভেতরেই এক চাকরি থেকে অন্য চাকরিতে স্থানান্তরের জন্য দুই বছর মেয়াদি বিশেষ পারমিট, পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের জন্য কাজের অনুমতি, নির্দিষ্ট মেয়াদের জরুরি কাজের জন্য মিশন পারমিট এবং সাময়িক কাজের জন্য অস্থায়ী পারমিট চালু করা হয়েছে।

 

আধুনিক বিশ্বের কর্মসংস্থানের পরিবর্তনশীল চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফ্রিল্যান্সার এবং খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম কর্মীদের জন্যও অভূতপূর্ব সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো প্রতিষ্ঠানের সরাসরি অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হচ্ছে।

 

এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা এখন তাদের মূল নিয়োগকর্তার পূর্বানুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে পার্ট-টাইম কাজ করার বিপুল সুযোগ পাবেন। এর বাইরেও ব্যক্তিগত শিক্ষকতা বা প্রাইভেট টিউশন এবং গোল্ডেন ভিসা ধারীদের জন্য বিশেষ পারমিটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানের মূল ধারায় যুক্ত করতেও বিশেষ নজর দিয়েছে আমিরাত সরকার। পনেরো থেকে আঠারো বছর বয়সি কিশোরদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে ‘জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট’ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান পারমিট দেওয়া হচ্ছে।

 

একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সাধারণ পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় স্নাতকদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ পারমিটও চালু করেছে দেশটির সরকার। গালফ নিউজের সূত্রমতে, এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো আমিরাতের অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

 

- গালফ নিউজ