বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২২ দেশের কঠোর সতর্কবার্তা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২২ দেশের কঠোর সতর্কবার্তা
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ভূখণ্ডে গুপ্তহত্যা, অপহরণ ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ তুলে ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ মোট বাইশটি রাষ্ট্র।

 

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে এসব দেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের সীমানার ভেতরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ আর সহ্য করা হবে না।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যৌথ বিবৃতি বৈশ্বিক কূটনীতিতে ইরানের ওপর নতুন করে চাপ প্রয়োগের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, বিদেশি মাটিতে সাধারণ মানুষ হত্যা, ভিন্নমতাবলম্বীদের অপহরণ, হয়রানি কিংবা যেকোনো ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

 

অবিলম্বে তেহরানকে এ ধরনের বেআইনি ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসার জোর দাবি জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-এর গোয়েন্দা বিভাগ এবং বিদেশে গোপন অভিযান পরিচালনাকারী শাখা ‘কুদস ফোর্স’ দীর্ঘদিন ধরে এসব গুপ্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।

 

মূলত বিদেশে অবস্থানরত ইরানবিরোধী সমাজকর্মী, স্বাধীন সাংবাদিক এবং ইহুদি ও ইসরায়েলি সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র ও হামলার নেপথ্যে এই বাহিনীগুলোর সরাসরি মদদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

ইউরোপজুড়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইহুদি সম্প্রদায় এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে যেসব পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে, তার পেছনেও ইরানের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এই ধরনের বেশ কিছু হামলার দায় ইতিমধ্যে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী 'হারাকাত আশাব আল-ইয়ামিন আল-ইসলামিয়া' প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছে। উদ্ভূত এই বৈশ্বিক হুমকির মুখে নিজেদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের জীবন সুরক্ষায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলো সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

 

ইরানকে অবিলম্বে এ ধরনের সকল কর্মকাণ্ড বন্ধ করার চূড়ান্ত আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক এই উত্তেজনার পটভূমিতে গত বছরের আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়ার নেওয়া একটি কঠোর পদক্ষেপের কথা স্মরণ করা যেতে পারে।

 

নিজ ভূখণ্ডে অন্তত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পেছনে তেহরানের সরাসরি নির্দেশ থাকার অভিযোগ তুলে অস্ট্রেলিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দেশ থেকে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছিল।

 

একই সঙ্গে চরম প্রতিবাদস্বরূপ তেহরান থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে দূতাবাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমও স্থগিত করে তারা। পরবর্তীতে গত নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ঘোষণা করে।

 

ইরানের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও যৌথ বিবৃতিতে যে বাইশটি দেশ স্বাক্ষর করেছে, তারা হলো- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং উত্তর মেসিডোনিয়া।

 

এই বৃহৎ কূটনৈতিক জোটের সম্মিলিত হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তেহরানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।

 

- দ্য স্ট্রেইটস টাইমস