বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জর্ডানে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ এএম

জর্ডানে মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : Collected

জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো লক্ষ্য করে এই অতর্কিত হামলা চালায় ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

 

এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে চরম সামরিক উত্তেজনা ও বৃহত্তর যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, তারা ওই মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানায় মোট ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

 

তাদের দাবি, ঘাঁটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

 

এর ফলে একাধিক যুদ্ধবিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামরিক অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে এক কঠোর বার্তায় আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত এই অঞ্চলে তাদের শত্রুতাপূর্ণ আচরণ ও আগ্রাসন অব্যাহত রাখবে, ইরানও ঠিক তত দিন পর্যন্ত তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার্থে এর সমুচিত ও চূড়ান্ত জবাব দিয়ে যাবে।

 

এই নজিরবিহীন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জর্ডানে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, জর্ডানের আকাশসীমায় অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা রকেটের উপস্থিতি রাডারে শনাক্ত করা হয়েছে।

 

উদ্ভূত এই সংকটময় ও অনিরাপদ পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার। ওই দিন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়।

 

এই দুর্ঘটনার পেছনে সরাসরি ইরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে-এমন জোরালো দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থানে হামলা চালায়। এর জবাবে নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

 

আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে তাদের সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

 

তবে এই ঘোষণার পরও ইরান তাদের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। জর্ডানে এই সর্বশেষ হামলার আগে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও টানা দুবার হামলা চালায়।

 

এরপরই তারা জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এই ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

 

- আল জাজিরা