‘দ্বিতীয় আরোপিত যুদ্ধের প্রথম বার্ষিকী’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই কড়া সতর্কতা জারি করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মানদণ্ড অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীর এই শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্যে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির চিত্রটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো শত্রুর মোকাবিলায় সর্বাধুনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও নিখুঁত লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক অভিযান পরিচালনায় পুরোপুরি সক্ষম।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো আগ্রাসনের পরিণতি শত্রুপক্ষের জন্য চরম অনুশোচনামূলক হবে। আগামী ২৩ জুনের কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত এই যুদ্ধের সূচনা এবং ইরানি জনগণের অবিস্মরণীয় প্রতিরোধের ইতিহাসকে স্মরণ করে এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ওই বার্তায় ইরানের অবিরাম প্রতিরোধ সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি তার বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শহীদ মোহাম্মদ বাকেরি, গোলাম আলী রশিদ, আলী শামখানি, হোসেইন সালামি এবং আমির আলী হাজিজাদের মতো প্রখ্যাত শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা দেশের এই ঐতিহাসিক প্রতিরোধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে অত্যন্ত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছেন।
মাতৃভূমির সুরক্ষায় তাদের এই অসামান্য আত্মত্যাগ ইরানের সামরিক শক্তি, প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং জাতীয় আত্মমর্যাদার ইতিহাস গঠনে এক নতুন ও অবিনশ্বর অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
শীর্ষ এই সামরিক কমান্ডার তার বার্তায় আরও উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিককালের এই সংঘাত বিশ্ববাসীর সামনে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে ইরানের আপামর জনসাধারণ যেকোনো বহিঃশত্রুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণরূপে ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আনুগত্য বজায় রেখে সাধারণ মানুষ এবং সামরিক বাহিনী সম্মিলিতভাবে নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং পবিত্র জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে সক্ষম।
তিনি তার মূল্যায়নে দাবি করেন, প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, তাদের চরম ভুল হিসাব-নিকাশ এবং ভ্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক ধারণার কারণে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
এই অপরিণামদর্শী আগ্রাসনের ফলে আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। বার্তার শেষাংশে দেশের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
মেজর জেনারেল আবদুল্লাহি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক সমর্থন, সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আধুনিক প্রস্তুতি দেশের সার্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি স্বাধীন ইরানের অদম্য প্রতিরোধ শক্তির একটি সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন বার্তা হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে। পরিশেষে তিনি এই বলে আশ্বস্ত করেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সীমান্তজুড়ে সার্বক্ষণিক নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের উস্কানি বা হুমকির জবাব অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক, কঠোর এবং শত্রুর জন্য চিরকাল আফসোস করার মতো সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই দেওয়া হবে।