শুক্রবার, জুন ১২, ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা
ছবি : Collected

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরাজমান দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নিরসনের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের প্রবল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই চুক্তিটি সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে শুক্রবার জানানো হয়েছে যে, সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী রোববারের মধ্যেই এই যুগান্তকারী অনুষ্ঠান আয়োজনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

 

কূটনৈতিক আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এই বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে।

 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যকার চলমান চরম উত্তেজনা হ্রাসে একটি চমৎকার ও ফলপ্রসূ সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে ইঙ্গিত দেন যে, আগামী কয়েক দিনের ভেতরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি চূড়ান্ত রূপ লাভ করতে পারে। পাশাপাশি তিনি জানান, ইউরোপের কোনো একটি শহরে এই বিশেষ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স সশরীরে উপস্থিত থেকে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

 

কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত একাধিক সূত্র দাবি করেছে যে, চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য জেনেভা শহরকেই প্রাথমিক ও প্রধান পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

আসন্ন জি-সেভেন (জি-৭) সম্মেলনের ভেন্যু ফ্রান্সের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই জেনেভাকে একটি আদর্শ এবং অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থান হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে।

 

এই চুক্তির পরবর্তী পর্যায়ে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধিরা সমঝোতা স্মারকের পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন, শর্তাবলি ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে আরও বিস্তারিত এবং ধারাবাহিক আলোচনায় বসবেন।

 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সমঝোতা স্মারকটির সম্ভাব্য নামকরণ করা হয়েছে 'ইসলামাবাদ ডিক্লারেশন' বা 'ইসলামাবাদ ঘোষণা'। দীর্ঘদিনের এই জটিল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ও সফল মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকার ঐতিহাসিক স্বীকৃতিস্বরূপ এমন নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

 

তবে এখন পর্যন্ত চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম, স্বাক্ষরের চূড়ান্ত স্থান কিংবা সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে কোনো পক্ষের তরফ থেকেই চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে, ইরানের পক্ষ থেকে এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা বাকি রয়েছে।

 

অন্যদিকে, একটি নির্ভরযোগ্য ইরানি সূত্র জানিয়েছে যে, চূড়ান্ত ভেন্যু হিসেবে জেনেভার পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাকেও সমগুরুত্ব দিয়ে নিবিড়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

- সিএনএন