তবে এই সাময়িক বিলম্বের অর্থ চুক্তির সম্ভাবনাকে তেহরান একবারে নাকচ করে দিচ্ছে না; বরং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে আগামী দিনগুলোতে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হতে পারে বলে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ এক বিশেষ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, পাকিস্তান সরকারের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতা ও সক্রিয় সহযোগিতায় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি বা দলিলের চূড়ান্ত খসড়াটি তৈরি করা হচ্ছে।
আলোচনার টেবিলে থাকা এই সমঝোতা স্মারকটির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, মূলত 'ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক' নামে অভিহিত এই দলিলের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দেওয়া ভালো যে, বর্তমান আলোচনার এই প্রাথমিক পর্যায়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর পারমাণবিক বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা বা শর্ত এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।
সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট তারিখের বিষয়ে মুখপাত্র বাঘাই আরও বলেন, সমঝোতা স্মারকটি ঠিক কবে নাগাদ চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হবে, সেই সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্ববাসীকে আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে।
যদিও এটি এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিত যে আগামীকাল রোববারে চুক্তিটি সই হচ্ছে না, তবুও আগামী দিনগুলোতে এর একটি সফল ও চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাকে তেহরান মোটেও উড়িয়ে দিচ্ছে না এবং এ বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে এই সমঝোতামূলক আলোচনার আবহ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে এক ধরনের গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন এই ইরানি মুখপাত্র।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অপর পক্ষের অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং আচরণ প্রায়শই অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও ঘন ঘন পরিবর্তনশীল হয়ে থাকে।
আর এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কারণে পুরো চুক্তি প্রক্রিয়া এবং এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত যেকোনো মন্তব্য বা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সতর্ক থাকতে হবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের নীতি পরিবর্তনের ইতিহাসের কারণেই তেহরান এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সবদিক নিখুঁতভাবে যাচাই করে নিতে চাইছে।