বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: কংগ্রেসে কি একীভূত হচ্ছে মমতার তৃণমূল?

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক: কংগ্রেসে কি একীভূত হচ্ছে মমতার তৃণমূল?
ছবি: সংগৃহীত

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এখন তীব্র জল্পনা চলছে যে, পশ্চিমবঙ্গের টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কি তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করতে যাচ্ছেন?

 

১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল গঠনের পর দীর্ঘ তিন দশক ধরে একক শক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ শাসন করা এই নেত্রীর রাজনৈতিক জীবনে এমন মোড় আসবে, তা মাত্র এক সপ্তাহ আগেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দূরতম কল্পনাতেও ছিল না।

 

তবে সাম্প্রতিক এক নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ এবং নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এই সম্ভাবনা এখন আর কেবল জল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

 

গত ৪ মে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। তীব্র সরকারবিরোধী ক্ষোভ এবং প্রবল রাজনৈতিক ঝড়ে ২৯৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়ে।

 

এই বড় বিপর্যয়ের পরপরই দলটির ভেতরে, বিশেষ করে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বিদ্রোহ দেখা দেয়।

 

শতাধিক কাউন্সিলরের পদত্যাগ এবং ৬০ জনেরও বেশি বিধায়কের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার ঘটনা মমতার কর্তৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

 

এর পাশাপাশি, দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য কাকলী ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জনই বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটকে সমর্থন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

 

এই চরম আইনি ও রাজনৈতিক সংকট থেকে দল ও পরিবারের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতেই মমতা বন্দোপাধ্যায় দিল্লির শরণাপন্ন হয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই তীব্র সংকটের পটভূমিতেই গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের প্রবীণ নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এর পরদিন তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠক করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, সোনিয়া গান্ধী মমতাকে কংগ্রেসের জাতীয় সহ-সভাপতি এবং অভিষেককে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

 

বিপরীতে, অভিষেক বন্দোপাধ্যায় মমতাকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে উচ্চকক্ষের বিরোধী দলনেতা করার পাল্টা প্রস্তাব রেখেছেন। তবে এই সম্ভাব্য একীভূতকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়।

 

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের সিংহভাগ বিধায়ক ও সংসদ সদস্য কোনোভাবেই কংগ্রেসে যোগ দেবেন না। জীবনভর লড়াকু নেত্রী হিসেবে পরিচিত মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজের দলের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে এই চুক্তিতে শেষ পর্যন্ত সই করবেন কিনা, তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

 

- ইন্ডিয়া টুডে