বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের জরুরিভিত্তিতে উপস্থিত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের অন্যতম প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের দীর্ঘ ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ের ঘোষণায় এ ধরনের শীর্ষ নেতাদের একযোগে তলব করার ঘটনা একেবারেই বিরল।
সাধারণত জাতীয় পর্যায়ে কোনো বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণ কিংবা বড় কোনো সাংবিধানিক রদবদলের সুস্পষ্ট আভাস থাকলেই কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করে থাকে।
তবে অতীত পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায়, সেসব ক্ষেত্রেও এতটা তড়িঘড়ি করে মাত্র কয়েক ঘণ্টার সময়সীমায় কেন্দ্রীয় ও প্রান্তিক নেতাদের ডাকা হয় না; বরং আগে থেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
বুধবার আকস্মিকভাবে ডাকা এই বৈঠক ঘিরে তাই সর্বমহলে গভীর কৌতূহল ও নানা জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর বিপুল সংখ্যক অনুসারীর কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার বা দলটির সঙ্গে একীভূত হওয়ার যে জোরালো গুঞ্জন সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে, এই আকস্মিক বৈঠককে তার একটি সরাসরি যোগসূত্র হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে শোনা যাচ্ছে, নয়াদিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক একান্ত ও রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার এই বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জাতীয় রাজনীতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে চায়।
পাশাপাশি, এ বিষয়ে দলগতভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়ে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করতেই সব রাজ্যের শীর্ষ কংগ্রেস কর্তাদের দিল্লিতে তলব করা হয়েছে।
এই জরুরি তলবের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, রাজ্যের চলমান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি ফেলেও শীর্ষ নেতাদের অবিলম্বে দিল্লিতে পৌঁছাতে হচ্ছে। এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের বর্তমান সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
তিনি বুধবার নিজ রাজ্যে লোকভবন ঘেরাও নামের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং একপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় ছাড়া পাওয়ার পরপরই তিনি আর কালবিলম্ব না করে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি ও শীর্ষ নেতাদের এই তড়িঘড়ি ছুটে চলা বিবেচনায় এটা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, কংগ্রেসের ভেতরে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা নতুন রূপরেখা তৈরি হতে যাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এবং বিরোধী দলগুলোর ঐক্যে এক নতুন মেরুকরণের সূচনা করতে পারে। এখন গোটা দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাধারণ মানুষের নজর বৃহস্পতিবারের এই উচ্চ পর্যায়ের গোপন বৈঠকের দিকে, যেখান থেকে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের এক যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে জোরালোভাবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।