দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং পারস্পরিক স্বার্থে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে একমত হয়েছেন এই দুই শীর্ষ নেতা।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) বরাত দিয়ে মঙ্গলবার প্রকাশিত সংবাদে জানানো হয়, সোমবার রাতে দুই নেতার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে উভয় নেতাই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
এই ঐতিহাসিক সফরকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন জানান, চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব অটুট রাখা তাদের দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি কৌশলগত কাজ।
বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হিসেবে অত্যন্ত সম্মানজনক আখ্যা দেন তিনি। কিম আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছরে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক সফরের গন্তব্য হিসেবে শি জিনপিং উত্তর কোরিয়াকে বেছে নিয়েছেন, যা পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বেইজিংয়ের জোরালো ও অবিচল সমর্থনের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পাশাপাশি এই শীর্ষ বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও বিশদ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে কিম জং উন বেইজিংয়ের ‘এক চীন নীতি’-এর প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের পূর্ণাঙ্গ ও শর্তহীন সমর্থন পুনরায় ব্যক্ত করেন।
এই নীতির আওতায় চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। কেসিএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় পক্ষই নিজেদের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে একটি বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, শুধু কূটনৈতিক বা কৌশলগত সম্পর্কই নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও দুই দেশ একযোগে কাজ করবে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উত্তর কোরিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, আধুনিক কৃষি, ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণ এবং অগ্রসর প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে চীনের গভীর আগ্রহের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
এই পদক্ষেপগুলোর মধ্য দিয়ে আগামী দিনগুলোতে এশিয়া অঞ্চলে দুই দেশের মৈত্রী ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।