প্রাথমিকভাবে এই অপরাধটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হলেও, পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতীয় শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা গোটা দেশের সচেতন মহলকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত ওই তরুণীর নাম অবিসেলভি। নিজ পরিবারের অমতে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণেই তাকে নিজ গৃহে প্রাণ হারাতে হয়েছে।
অভিযুক্ত হিসেবে নিহতের ভাই থিরুঞানাম এবং তার মাকে ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার পর পরই পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় অত্যন্ত সুকৌশলে দাবি করা হয়েছিল যে, অবিসেলভি নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন।
পরিবারের এমন দাবির ভিত্তিতে পুলিশ প্রথমে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছিল। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তরুণীর মৃতদেহ স্থানীয় হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর পরেই পুরো ঘটনার মোড় নাটকীয়ভাবে ঘুরে যায়।
চিকিৎসকদের দেওয়া ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণ মেলে যে, তরুণীটি আত্মহত্যা করেননি, বরং তাকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর পুলিশের কঠোর জেরার মুখে পরিবারের সদস্যদের সাজানো গল্পের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর এক সত্য।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের মধ্যে চরম বাদানুবাদ ও তীব্র কলহের সৃষ্টি হয়। সেই বিবাদের একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাই থিরুঞানাম তার আপন বোনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন এবং নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মা পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং এটিকে একটি সাধারণ আত্মহত্যা হিসেবে সাজিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে নিজের ছেলেকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছিলেন।
মামলার তদন্তকারী একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পরিচালিত আইনি তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা পারিপার্শ্বিক কারণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত মা ও ভাই নিহত তরুণীর কথিত প্রেমিককে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না; তারা কেবল ওই যুবকের নাম জানতেন এবং কোনো এক মাধ্যমে তার একটি ছবি দেখেছিলেন মাত্র।
পারিবারিক সম্মানের নামে আপন পরিবারের সদস্যদের হাতে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব স্তরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজকর্মীরা এ ধরনের অপরাধ কঠোর হস্তে দমনের জন্য অবিলম্বে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত মা ও ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে পুরো ঘটনার পেছনের প্রতিটি স্তর সম্পর্কে আরও বিশদ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।