পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা এবং আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের দেওয়া প্রাথমিক বিবৃতি অনুযায়ী, এই ভয়ংকর দুর্ঘটনায় উড়োজাহাজটিতে থাকা সব সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন ও আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজটিতে অপ্রত্যাশিতভাবে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে বৈমানিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার পর আইএসপিআর অত্যন্ত ভারাক্রান্ত চিত্তে জানিয়েছে যে, আকাশযানটিতে অবস্থানরত সব সেনাসদস্য ও কর্মকর্তা শাহাদাত বরণ করেছেন এবং দুর্ভাগ্যবশত সেখান থেকে কেউ জীবিত ফিরে আসতে পারেননি।
তবে ঠিক কতজন সামরিক সদস্য ওই আকাশযানটিতে আরোহী হিসেবে ছিলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বা নাম প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্ধারকারী দল এবং অনুসন্ধানকারী সংস্থার সদস্যরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিবিড় তল্লাশি ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
এলাকাটি দুর্গম হওয়া সত্ত্বেও উদ্ধারকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে, ঠিক কী ধরনের কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন একটি সুরক্ষিত সামরিক আকাশযান বিধ্বস্ত হলো, তার সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটন করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের সেবায় নিয়োজিত সামরিক সদস্যদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনিরসহ সেনাবাহিনীর সব স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
তাঁরা নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা ও সহানুভূতি জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে সামরিক আকাশযান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের দিয়ামের জেলায় অনুরূপ কারিগরি ত্রুটির শিকার হয়ে সেনাবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়, যেখানে পাঁচজন সেনাসদস্য মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এছাড়াও একই বছরের আগস্ট মাসে চরম বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক সরকারের একটি জরুরি উদ্ধারকারী আকাশযান মোহমান্দ জেলায় বিধ্বস্ত হয়।
ওই দুর্ঘটনাটিতেও দুজন বৈমানিক ও তিনজন কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। বারবার এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি পাকিস্তানের সামরিক বিমান চলাচল খাতের কারিগরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।