অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অমানবিক এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। শুক্রবার (১২ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নিহত ওই বৃদ্ধের নাম জাফর কামরুদ্দিন সাইয়্যেদ প্যাটেল। তিনি স্থানীয় পানিসম্পদ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার এবং শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে তিনি নিজের ছেলে আবদুল রেহমান আবদুল জাফরের বিরুদ্ধে গত প্রায় দুই বছর ধরে দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযুক্ত ছেলে পেশায় একজন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের কাছে দেওয়া পরিবারের অভিযোগ থেকে জানা যায়, তিনি নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অহেতুক ঝগড়া-বিবাদ করতেন এবং কথায় কথায় তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতেন।
নিজের সন্তানের এমন অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একপর্যায়ে জাফর প্যাটেল নিজের বাড়ি ছেড়ে পুনে শহরে বসবাসরত তাঁর মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এরপর তিনি নিজের কষ্টার্জিত বাড়ি থেকে ছেলেকে আইনিভাবে উচ্ছেদের লক্ষ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি আদালত জাফর প্যাটেলের পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায়ে বাড়ির আইনগত মালিকানা পুনরায় তাঁর কাছে ফিরিয়ে দিয়ে ছেলেকে ওই বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু আইনের এই বিজয়ই যে তাঁর জীবনের চরম পরিণতি ডেকে আনবে, তা হয়তো তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, আদালতের রায় নিজের পক্ষে পাওয়ার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন।
পথিমধ্যে ক্ষুব্ধ ও প্রতিশোধপরায়ণ আবদুল রেহমান তাঁর বাবার বহনকারী অটোরিকশার গতিরোধ করেন। এরপর প্রকাশ্য রাস্তায় সবার সামনেই তিনি তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে নির্মমভাবে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় জাফর প্যাটেলকে উদ্ধার করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলার সময় ভাইয়ের রক্তমাখা হাতের কবল থেকে নিজের জন্মদাতা বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে সঙ্গে থাকা মেয়েও গুরুতরভাবে আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ওই মেয়েকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং অভিযুক্ত আবদুল রেহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ এবং ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে পুলিশের নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।