অনেকেই ধারণা করছিলেন, নিজের প্রতিষ্ঠিত দল তৃণমূল কংগ্রেসকে মূল দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত করে হয়তো পুরোনো রাজনৈতিক ঠিকানায় ফিরতে চলেছেন তিনি।
বিশেষ করে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই গুঞ্জন আরও জোরালো রূপ নেয়। তবে বৃহস্পতিবার কংগ্রেস দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল এই সমস্ত জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দলে ফেরার বিষয়ে মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনো প্রকার আলোচনাই হয়নি। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ চল্লিশ বছরের পুরোনো রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখানে মূলত কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিরোধী রাজনীতি গড়ে তোলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় পরাজয়ের পর দলটিতে যে চরম অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও দৃশ্যমান ভাঙন দেখা দিয়েছে, মূলত সেই প্রেক্ষাপটেই দলবদলের এমন গুঞ্জনের ডালপালা বিস্তার করেছিল।
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের একের পর এক প্রভাবশালী বিধায়ক এবং সংসদ সদস্য প্রকাশ্যেই নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে শুরু করেছেন। রাজনৈতিক এই ডামাডোলের মধ্যেই নেতা ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বে রাজ্য বিধানসভায় বিক্ষুব্ধদের নিয়ে একটি সম্পূর্ণ আলাদা ব্লক তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, লোকসভাতেও দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অবস্থান। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রায় বিশজন লোকসভা সাংসদ সরাসরি কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটকে সমর্থন করবেন বলে প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন।
শুধু লোকসভা বা বিধানসভা নয়, রাজ্যসভাতেও দলের সংসদ সদস্যরা একে একে পদত্যাগ করে চলেছেন। এই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালেই ইস্তফা দিয়েছেন প্রকাশচিক বরাইক এবং সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই চরম টালমাটাল পরিস্থিতি ও লাগাতার ভাঙনের মুখেই নয়াদিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে, দল বিলুপ্ত করে কংগ্রেসে ফিরে এলে মমতা ব্যানার্জীকে সর্বভারতীয় স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী।
ফলে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের দলীয় নীতি-নির্ধারণী বৈঠকের দিকে ভারতের সমগ্র সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর ছিল। তবে দলীয় বৈঠক শেষে কংগ্রেস নেতা কেসি ভেনুগোপাল এই সমস্ত মুখরোচক জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছেন।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোতে মূলত জাতীয় রাজনীতি এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কীভাবে বিরোধী দলগুলো আরও কার্যকর ও সম্মিলিতভাবে তুলে ধরতে পারে, ঠিক সেই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে; এখানে তৃণমূলের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার কোনো অবকাশ নেই।