মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহে জাপানের ঐতিহাসিক মহাকাশ শুরু

আর এন এস আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহে জাপানের ঐতিহাসিক মহাকাশ শুরু
ছবি : বিবিসি

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন এবং যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে মঙ্গলের রহস্যময় উপগ্রহ ফোবোসের উদ্দেশে সফলভাবে যাত্রা শুরু করেছে জাপানের একটি অত্যাধুনিক মহাকাশযান।

 

এই শ্বাসরুদ্ধকর এবং উচ্চাভিলাষী অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো লাল গ্রহ মঙ্গলের এই ক্ষুদ্র উপগ্রহটির পৃষ্ঠ থেকে প্রথমবারের মতো মাটি বা ধূলিকণার আদিম নমুনা সংগ্রহ করে তা পৃথিবীতে নিয়ে আসা।

 

যদি এই দুঃসাহসিক এবং অত্যন্ত জটিল অভিযানটি শতভাগ সফলতার মুখ দেখে, তবে মানব সভ্যতার ইতিহাসে এটিই হবে মঙ্গল গ্রহ বা এর কোনো উপগ্রহ থেকে পৃথিবীতে সরাসরি বৈজ্ঞানিক নমুনা নিয়ে আসার প্রথম এবং অনন্য দৃষ্টান্ত।

 

পৃথিবীর সর্বাধুনিক গবেষণাগারগুলোতে এই মহাজাগতিক নমুনাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে সৌরজগতের সৃষ্টি এবং বিবর্তন সম্পর্কে অভাবনীয় সব তথ্য উন্মোচিত হবে বলে বিজ্ঞানীরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

 

আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর কাছে এই অভিযানটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের প্রমাণই নয়, বরং এটি মহাজাগতিক রহস্য ভেদের এক অমূল্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং প্রত্যক্ষ পরিচালনায় শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযানটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করা হয়েছে মার্স মুনস এক্সপ্লোরেশন বা এমএমএক্স মিশন।

 

বিজ্ঞানীদের সুনির্দিষ্ট এবং নিখুঁত হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে এই অত্যাধুনিক মহাকাশযানটি আগামী ২০২৭ সালের আগস্ট মাসের দিকে মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসের কক্ষপথে নিরাপদে গিয়ে পৌঁছাবে।

 

এই দীর্ঘ এবং বিপদসঙ্কুল মহাকাশ পাড়ি দেওয়ার পর সেখানে পৌঁছে যানটি তার মূল বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম শুরু করবে। যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের প্রখ্যাত অধ্যাপক এবং এই এমএমএক্স মিশনের নমুনা বিশ্লেষণ দলের উপ-প্রধান সারা রাসেল এই অভিযানের বিষয়ে অত্যন্ত গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

 

তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, এর আগে কখনোই মানবজাতি ফোবোসে গিয়ে সেখান থেকে সফলভাবে কোনো নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়নি। তাঁর মতে, এটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ, ঠিক তেমনি মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক রোমাঞ্চকর এবং আনন্দদায়ক যাত্রাও বটে।

 

আমাদের বিশাল সৌরজগতের অভ্যন্তরীণ অংশে মূলত মাত্র তিনটি প্রাকৃতিক উপগ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো আমাদের চিরচেনা এবং প্রিয় চাঁদ, আর বাকি দুটি হলো মঙ্গল গ্রহকে কেন্দ্র করে আবর্তনরত ক্ষুদ্রাকৃতির উপগ্রহ, যাদের বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে ফোবোস এবং ডিমোস।

 

পৃথিবীর চাঁদের তুলনায় মঙ্গলের এই দুটি উপগ্রহ আকারে নিতান্তই ক্ষুদ্র এবং এদের গঠনগত বৈশিষ্ট্যও বেশ অদ্ভুত। বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যমতে, ফোবোসের ব্যাস মাত্র কুড়ি কিলোমিটার এবং ডিমোসের ব্যাস প্রায় দশ কিলোমিটারের কাছাকাছি।

 

এই উপগ্রহগুলো আমাদের চাঁদের মতো গোলাকার বা সুডৌল নয়, বরং এদের বাহ্যিক আকৃতি অত্যন্ত এবড়োখেবড়ো এবং অসমতল, যা দেখতে অনেকটা মহাকাশে ভাসমান বিশাল আলুর মতো মনে হয়।

 

এমএমএক্স মহাকাশযানটি যখন মঙ্গলের বিশাল এবং রহস্যময় প্রতিবেশে প্রবেশ করবে, তখন এটি প্রথমেই ডিমোসকে দূর থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং এর গঠনতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে প্রাথমিক গবেষণা চালাবে।

 

তবে এই মিশনের মূল এবং চূড়ান্ত লক্ষ্যবস্তু হলো ফোবোস, যার পৃষ্ঠে অবতরণ করে নমুনা সংগ্রহের কঠিন চ্যালেঞ্জটি যানটিকে মোকাবিলা করতে হবে। এই মহাকাশ অভিযানটির অন্যতম প্রধান এবং জটিল চ্যালেঞ্জ হলো ফোবোসের চরম অসমতল পৃষ্ঠে একটি ক্ষুদ্রাকৃতির স্বয়ংক্রিয় যান বা রোভারকে সফলভাবে অবতরণ করানো।

 

বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন যে, এই ধরনের একটি ক্ষুদ্র এবং অনিয়মিত আকৃতির উপগ্রহে যান নামানো কোনোভাবেই সহজ কাজ নয়। অধ্যাপক সারা রাসেল এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করে জানান, এ পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো দেশের মহাকাশ সংস্থাই এত ছোট কোনো উপগ্রহের বুকে সফলভাবে কোনো রোভার অবতরণ করাতে সক্ষম হয়নি।

 

এর পেছনের মূল কারণটি হলো অভিকর্ষজ বলের জটিল সমীকরণ। ফোবোস উপগ্রহটির নিজস্ব অভিকর্ষজ বল বা মাধ্যাকর্ষণ শক্তি অত্যন্ত ক্ষীণ, যা একটি যানকে পৃষ্ঠে স্থিরভাবে ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু এর ঠিক পাশেই অবস্থান করছে সুবিশাল মঙ্গল গ্রহ, যার অভিকর্ষজ বল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রভাব বিস্তারকারী।

 

এই দুই বিপরীতমুখী এবং অসম শক্তির উপস্থিতির কারণে ফোবোসের বুকে একটি যানকে নিরাপদে নামানো মহাকাশ প্রকৌশলীদের জন্য এক বিশাল এবং স্নায়ুক্ষয়ী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

 

এই জটিল অবতরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য মহাকাশযানটি প্রথমে একটি ছোট রোভারকে উপগ্রহটির পৃষ্ঠে পাঠাবে, যার প্রধান কাজ হবে একটি নিরাপদ এবং উপযুক্ত অবতরণস্থল খুঁজে বের করা। এই যানটি সফলভাবে একটি মসৃণ স্থান চিহ্নিত করার পর মূল এমএমএক্স যানটি সেখানে অবতরণ করবে।

 

পৃষ্ঠে মাটি স্পর্শ করার পরপরই যানটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তার রোবোটিক হাত এবং দুটি অত্যাধুনিক নমুনা সংগ্রহকারী যন্ত্র প্রসারিত করবে। এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রগুলো অত্যন্ত নিপুণভাবে ফোবোসের বুক থেকে ধূলিকণা এবং মাটির নমুনা সংগ্রহ করবে।

 

সংগৃহীত এই মহামূল্যবান মহাজাগতিক বস্তুকণাগুলোকে এরপর একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং মজবুত ক্যাপসুলের ভেতর আবদ্ধ করা হবে। এই ক্যাপসুলটি মঙ্গলের উপগ্রহ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ২০৩১ সালে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসবে এবং অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত প্রত্যন্ত ওমেরা মরুভূমির বুকে নিরাপদে অবতরণ করবে বলে বিজ্ঞানীরা পরিকল্পনা করেছেন।

 

পৃথিবীর বুকে ফিরে আসা এই নমুনার পরিমাণ শুনে সাধারণ মানুষের কাছে তা অত্যন্ত নগণ্য মনে হতে পারে। কারণ, এই দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল অভিযানের মাধ্যমে ফোবোস থেকে মাত্র দশ গ্রাম পরিমাণ ধূলিকণা বা মাটি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে এই সামান্য পরিমাণ নমুনাই এক বিশাল বৈজ্ঞানিক রত্নভাণ্ডার।

 

জাপানি এই মিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকা লেস্টার ইউনিভার্সিটির বিশিষ্ট গবেষক ডক্টর ক্রাইসা আউডেলিদো এই বিষয়ে অত্যন্ত সুস্পষ্ট একটি ধারণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিমাণের দিক থেকে এটি খুবই অল্প হলেও, আধুনিক বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের যুগে একটি মাত্র ধূলিকণার ওপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞানীরা অসংখ্য যুগান্তকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে সক্ষম।

 

বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অন্য কোনো গ্রহ বা উপগ্রহ থেকে বস্তাভর্তি মাটি আনার কোনো প্রয়োজন নেই। গবেষণাগারের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই দশ গ্রাম মাটির প্রতিটি অণু-পরমাণু বিশ্লেষণ করে মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্যের অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচন করা সম্ভব, তাই বিজ্ঞানীদের কাছে এর প্রতিটি গ্রামের বৈজ্ঞানিক মূল্য অপরিসীম।

 

এই সামান্য মাটির নমুনাই দীর্ঘদিনের একটি বড় বৈজ্ঞানিক বিতর্কের চিরস্থায়ী অবসান ঘটাবে বলে গবেষকরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো একটি বড় রহস্য রয়ে গেছে যে, প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর আগে মঙ্গলের এই উপগ্রহ দুটির সৃষ্টি ঠিক কীভাবে হয়েছিল।

 

এই বিষয়ে বিজ্ঞান মহলে মূলত দুটি শক্ত এবং প্রতিদ্বন্দ্বী তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। প্রথম তত্ত্ব অনুযায়ী, সৌরজগতের প্রাথমিক এবং উত্তাল দিনগুলোতে কোনো বিশাল আকৃতির মহাজাগতিক শিলা বা গ্রহাণু মঙ্গল গ্রহের বুকে প্রচণ্ড শক্তিতে আঘাত হেনেছিল এবং সেই ধ্বংসাত্মক সংঘর্ষের ফলে ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষ একত্রিত হয়ে ফোবোস এবং ডিমোসের জন্ম হয়েছিল।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় তত্ত্বটি দাবি করে যে, এই উপগ্রহ দুটি মূলত সৌরজগতের বাইরের অংশ থেকে ভেসে আসা দুটি স্বাধীন গ্রহাণু, যেগুলো মঙ্গলের কাছাকাছি আসার পর এর শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ বলের টানে আটকা পড়ে যায় এবং চিরকালের জন্য এর উপগ্রহে পরিণত হয়।

 

অধ্যাপক রাসেল জানান, পৃথিবীতে নমুনাগুলো আসার পর যখন এদের রাসায়নিক গঠন এবং খনিজ উপাদানগুলো নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে, তখন এই দুটি তত্ত্বের মধ্যে কোনটি সঠিক তা একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

 

এই মূল রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা আরও একটি বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক চমক পাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। ফোবোস উপগ্রহটি মঙ্গলের পৃষ্ঠের এত বেশি কাছাকাছি অবস্থান করে যে, এই বিষয়টি বিজ্ঞানীদের মনে একটি নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

 

মহাকাশের ভাসমান উল্কা বা গ্রহাণু যখনই মঙ্গল গ্রহের বুকে আঘাত হানে, তখন সেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ফলে মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে ছিটকে পড়া ক্ষুদ্র ধূলিকণা বা মাটির অংশ অনায়াসেই ফোবোসের গায়ে এসে আছড়ে পড়তে পারে।

 

অধ্যাপক রাসেল ব্যাখ্যা করে বলেন, এই সম্ভাবনার মানে হলো, ফোবোস থেকে আনা ওই দশ গ্রাম নমুনার ভেতরে সরাসরি মঙ্গল গ্রহের মাটির ক্ষুদ্র কণাও মিশে থাকতে পারে। যদি সত্যিই এমনটা ঘটে, তবে মঙ্গলে সরাসরি অবতরণ না করেই বিজ্ঞানীরা লাল গ্রহটির ভূত্বকের রাসায়নিক গঠন এবং এর সুদীর্ঘ অতীত ইতিহাস সম্পর্কে একেবারে নিখুঁত এবং প্রত্যক্ষ তথ্য লাভ করতে সক্ষম হবেন, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের জন্য এক অভাবনীয় অর্জন হবে।

 

মঙ্গল গ্রহ থেকে সরাসরি মাটির নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার এই স্বপ্ন মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে দীর্ঘদিনের এক আরাধ্য বিষয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পারসিভারেন্স নামক রোভারটি ২০২১ সাল থেকে মঙ্গলের বুকে নিরলসভাবে বিচরণ করছে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেখানকার মাটির চমৎকার সব নমুনা সংগ্রহ করে বিশেষ ধরনের সুরক্ষিত পাত্রে জমা করে রাখছে।

 

নাসার পরিকল্পনা ছিল ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আরেকটি অভিযানের মাধ্যমে সেই পাত্রগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মার্কিন কংগ্রেসে এই বিপুল ব্যয়বহুল প্রকল্পের তহবিল অনুমোদন স্থগিত হয়ে যাওয়ার কারণে এই যৌথ মিশনটি বর্তমানে কার্যত বাতিলের খাতায় চলে গেছে।

 

অন্যদিকে, মহাকাশ গবেষণায় নবাগত পরাশক্তি চীন মঙ্গলের মাটির নমুনা সংগ্রহের জন্য নিজেদের একটি স্বাধীন মিশন পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে, যা ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে পৃথিবীতে নমুনা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

 

বর্তমানে পৃথিবীর বুকে মঙ্গল গ্রহের কিছু খণ্ড বা টুকরো বিজ্ঞানীদের সংগ্রহে রয়েছে, যা মূলত মঙ্গলের উল্কাপিণ্ড হিসেবে পরিচিত। সুদূর অতীতে মঙ্গল গ্রহের বুকে বড় ধরনের কোনো গ্রহাণুর আঘাতের ফলে সেখানকার পৃষ্ঠ থেকে ছিটকে পড়া কিছু পাথর মহাকাশে ভাসতে ভাসতে ঘটনাক্রমে পৃথিবীর বুকে এসে আছড়ে পড়েছিল।

 

ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন স্বনামধন্য জাদুঘরে এই ধরনের অত্যন্ত বিরল উল্কাপিণ্ড সযত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের জন্য এই উল্কাপিণ্ডগুলো গবেষণার ক্ষেত্রে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।

 

কারণ, মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ এবং পৃষ্ঠে আঘাত হানার সাথে সাথেই এই পাথরগুলো পৃথিবীর বাতাস, ধুলোবালি, মাটি এবং পানির সংস্পর্শে এসে দূষিত হয়ে যায়। ফলে এদের আদি এবং অকৃত্রিম বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অক্ষুণ্ণ থাকে না।

 

ঠিক এই কারণেই বিজ্ঞানীরা মঙ্গল বা এর উপগ্রহ থেকে একটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং আদিম নমুনা পাওয়ার জন্য এত দীর্ঘ সময় ধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, যা মানবজাতির মহাজাগতিক গবেষণায় এক যুগান্তকারী দিগন্তের সূচনা করবে।

 

- বিবিসি