বৃহস্পতিবার, জুন ১৮, ২০২৬
৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে স্পিকারের আসনের প্রতি সম্মান জানাতে পারবেন সংসদ সদস্যরা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে স্পিকারের আসনের প্রতি সম্মান জানাতে পারবেন সংসদ সদস্যরা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে স্পিকারের পবিত্র আসনের প্রতি সম্মান নিবেদনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা এখন থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতিনীতি ও বিশ্বাস অনুসরণ করার অধিকার লাভ করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেন।

 

দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনের একটি প্রচলিত প্রথা নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতার উত্থাপিত যৌক্তিক আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করার পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি দেওয়া হয়েছে।

 

পেশাদার ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পর্যালোচনায় এই ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৬ জুন অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান স্পিকারের আসনের প্রতি মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের প্রচলিত রীতির বিষয়ে তার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আনুষ্ঠানিক আপত্তি উত্থাপন করেছিলেন।

 

তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানানোর এই প্রথা তার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ওই দিন স্পিকার অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থাকেন।

 

তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তিনি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি বিশদভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে এ বিষয়ে তার চূড়ান্ত ও আইনানুগ সিদ্ধান্ত জানাবেন।

 

এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুকও সংসদে বিষয়টি দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে সুরাহা করার জন্য স্পিকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জ্ঞাপন করেন।

 

আইনপ্রণেতাদের এই সম্মিলিত ও বিনম্র আপত্তির সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার স্পিকার তার কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আইনি ব্যাখ্যার আলোকে জানান, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির সুনির্দিষ্ট ধারায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য যখন সংসদ কক্ষে প্রবেশ করবেন অথবা কক্ষ ত্যাগ করবেন এবং নিজের নির্ধারিত আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করবেন, তখন তাকে অবশ্যই সভাপতির আসনের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।

 

স্পিকার সংসদীয় ইতিহাসের পাতা থেকে অতীত দৃষ্টান্ত টেনে আরও স্পষ্ট করেন যে, পূর্বে এই বিধিতে সম্মান প্রদর্শনের ধরন বোঝাতে ‘ঝুঁকিয়া’ বা মাথা ঝুঁকিয়ে শব্দটি স্পষ্টভাবে যুক্ত ছিল।

 

তবে ২০০৬ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদের মেয়াদকালে এই নির্দিষ্ট বিধিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী সংশোধনী আনা হয়েছিল। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ বিষয়ে তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে পেশ করে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর তা সর্বসম্মতিক্রমে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

 

ওই যুগান্তকারী সংশোধনীর মাধ্যমেই মূলত মূল বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত বা বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সংশোধনীর প্রকৃত প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান আইনপ্রণেতাদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ মাত্রায় শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতা বজায় রেখে স্পিকার তার বক্তব্য শেষ করেন।

 

তিনি উপস্থিত সব সংসদ সদস্যের উদ্দেশে অত্যন্ত সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, এখন থেকে আইনপ্রণেতারা যার যার নিজস্ব ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী স্পিকারের পবিত্র আসনের প্রতি যথাযথ সম্মান নিবেদন করতে পারবেন।