যাত্রীসেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা এবং কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো এই খাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের মালপত্র ব্যবস্থাপনা, পণ্য ওঠানো-নামানো এবং উড়োজাহাজের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এককভাবে পালন করে আসছিল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান।
কিন্তু দীর্ঘ এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান নিয়ে যাত্রীদের বিস্তর অভিযোগ ছিল, যার ফলশ্রুতিতে এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে বিমানবন্দরে মালপত্র পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা, মালামাল চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সেবাদানকারী কর্মীদের অপেশাদার আচরণ নিয়ে দেশি-বিদেশি যাত্রীদের অসন্তোষ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমান সংস্থাও বিমানের ভূমিভিত্তিক সেবার ধীরগতি এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার নিজেদের হতাশা ব্যক্ত করেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছিল।
এই প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেবার মান বিশ্বমানে নিয়ে যেতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে বিদেশি ও অভিজ্ঞ কোম্পানিকে এই দায়িত্বে যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করলে দেশের বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক চিত্র বদলে যাবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বয়ংক্রিয় মালপত্র ব্যবস্থাপনা এবং পেশাদার কর্মীদের মাধ্যমে যাত্রীদের সময় বাঁচবে এবং ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর কাছে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একক আধিপত্য ভেঙে যাওয়ায় এখন থেকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে, যার চূড়ান্ত সুফল ভোগ করবেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে এই পটপরিবর্তন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।
নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এখন তাদের বাধ্য হয়েই নিজেদের সেবার মান উন্নত করতে হবে। দীর্ঘ ৫৪ বছরের একচেটিয়া ব্যবসার অবসানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশপথে যাত্রীসেবায় যে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একটি টেকসই ও আধুনিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করাবে বলে আশা করা হচ্ছে।