মঙ্গলবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের সামনে মাদক একটি ভয়াবহ সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এই সমস্যা থাকলেও দেশের প্রেক্ষাপটে এর প্রকোপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, সরকার কতজনকে আইনের আওতায় আনবে বা কতজনকে চিকিৎসা ও মানসিক পরামর্শ সহায়তা দেবে, তার একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তাই এই গভীর সামাজিক ব্যাধি নিরাময়ে আমাদের বিকল্প ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। যুব সমাজের অফুরন্ত প্রাণশক্তিকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, পনেরো থেকে পঁচিশ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক যে বিপুল শক্তি লুকিয়ে থাকে, তা সঠিক খাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে।
আর এই লক্ষ্য অর্জনে খেলাধুলা ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চাই হলো সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। তবে তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের তীব্র সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তরুণদের মেধা ও শক্তিকে গঠনমূলক কাজে লাগাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, দেশে ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষা বিভাগের একটি আয়োজনে সারা দেশের প্রায় বাইশ লক্ষ শিক্ষার্থী দলমত নির্বিশেষে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তবে এত বড় একটি ইতিবাচক ও জাতীয় আয়োজন দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রত্যাশিত মাত্রায় গুরুত্ব না পাওয়ায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।
খেলাধুলার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে নিয়মিত বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী মেলার আয়োজনের ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কেবল নির্দিষ্ট জাতীয় দিবসগুলোতে আবদ্ধ না থেকে সারা বছরব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে কোনো জীবন্ত প্রাণীকে পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার মতো অমানবিক মানসিকতা সমাজে প্রকট হয়ে উঠছে, যা চরম অস্বাভাবিক।
এই অবক্ষয় রোধে বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের নিবিড় চর্চা বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে তথ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মতবিনিময় সভার শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার রূপরেখা এবং সরকারের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের যৌক্তিক ও গঠনমূলক উত্তর দেন।
অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই আয়োজনে সরকারের তথ্যমন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।