সোমবার (১৫ জুন) সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এ ঘটনায় রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজ্যপ্রিয় বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত রিমন আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে, ঘটনার দিন ভিকটিম এনি বড়ুয়ার বাড়িতে সুজন বড়ুয়া নামের এক ব্যক্তির ঋণ সংক্রান্ত একটি চুক্তিপত্র সংরক্ষিত ছিল। সেই গুরুত্বপূর্ণ দলিলটি চুরি করার অসৎ উদ্দেশ্যে রিমন বড়ুয়া একটি ধারালো চাকু নিয়ে ভিকটিমের বাড়ির পেছনের দরজায় অবস্থান করছিলেন।
এ সময় গৃহকর্ত্রী এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে তাকে দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে রিমন তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। মায়ের চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারী তাকেও নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম স্পষ্টভাবে জানান, টাকা-পয়সা লেনদেন ও চুক্তিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য থেকেই এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত বা সামাজিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটা একটি অপরাধ।
এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য নেই বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামি স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছিলেন।
তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি যৌথ দল পটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ।
আসামি ফোনটি পটিয়া রেললাইনের পাশের ডোবায় এবং চাকুটি বাড়ির পেছনের খালে ফেলে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে চৌম্বক দণ্ড ব্যবহার করে খাল থেকে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি গ্রামের বসতঘর থেকে এনি বড়ুয়া (৪০) এবং তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার (১৬) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মৃত্যুর আগে গুরুতর আহত অবস্থায় মা এনি বড়ুয়া উপস্থিত স্বজনদের কাছে হামলাকারীর নাম বলে যেতে পেরেছিলেন। ঘটনার পর আনোয়ারা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। আজই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেবেন বলে আশা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।