রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রস্তাবিত বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি, প্রধানমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

প্রস্তাবিত বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি, প্রধানমন্ত্রী
ছবি : Collected

জাতীয় সংসদে সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটের পর দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামে কোনো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

 

তিনি এটিকে একটি অভাবনীয় সাফল্য এবং জনবান্ধব অর্থনীতির সুস্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।

 

সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সুফল যে দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে শুরু করেছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মূলত সেই বিষয়টিই অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

 

জনসভায় উপস্থিত হাজারো জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ঢাকা থেকে কক্সবাজার সফরের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শনিবার সকালে বিমানে ওঠার পর তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে চোখ বুলিয়েছিলেন।

 

সেখানে তিনি লক্ষ্য করেন, প্রায় প্রতিটি পত্রিকাতেই একটি অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে। অতীতে দেখা যেত, প্রতিবছর জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরদিনই বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে জিনিসপত্রের দাম দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা তৈরি হতো।

 

কিন্তু এবার সেই চিরাচরিত নিয়মের অভাবনীয় ব্যত্যয় ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী গভীর স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, পরম করুণাময়ের অশেষ রহমতে গত পরশুদিন বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি।

 

এটি মূলত সরকারের কঠোর বাজার তদারকি এবং অত্যন্ত বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক পরিকল্পনারই একটি দৃশ্যমান সাফল্য। বর্তমান বাজেটকে আপামর জনসাধারণের কল্যাণে নিবেদিত উল্লেখ করে সরকারপ্রধান দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, যে বাজেট ঘোষণার পর বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে না এবং সাধারণ মানুষের ওপর নিত্যদিনের খরচের বাড়তি বোঝা চাপে না, সেই বাজেটই হলো প্রকৃত অর্থে জনগণের পক্ষের বাজেট।

 

এবারের বাজেটে জনস্বাস্থ্যের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনতে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

 

এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী ওষুধপত্র থেকে শুরু করে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় নানাবিধ সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর থেকে সরকার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য হারে কর ও শুল্ক কমিয়ে এনেছে।

 

এর ফলে দেশের সাধারণ, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ অত্যন্ত সুলভ মূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা লাভ করতে পারবেন বলে তিনি প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চকরিয়ায় আয়োজিত এই বিশাল জনসভায় স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

 

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধানের এই বক্তব্য দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে বর্তমান প্রশাসনের যে দীর্ঘমেয়াদি ও অবিচল অঙ্গীকার রয়েছে, দেশবাসীর সামনে তারই একটি সুস্পষ্ট ও জোরালো বার্তা বহন করে।