বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫৫তম বাজেট। ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে প্রণীত এই বাজেটে জনগণের ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, জনগণের ক্ষমতায়নের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর ভর করেই একটি সমৃদ্ধ ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশ নির্মাণ করা হবে।
তিনি দেশ গঠনের এই মহতী উদ্যোগে কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, নারী, তরুণ উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রবাসী থেকে শুরু করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপ, সাহসী অর্থনৈতিক সংস্কার এবং জাতীয় ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশ তার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে সুদৃঢ়ভাবে অগ্রসর হবে।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, সরকার এমন একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গড়তে বদ্ধপরিকর, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে, উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করা হবে এবং কঠোর পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।
মূলত অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, সরকারি বিধিনিষেধ শিথিলকরণ এবং জনগণের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়েই এই অন্তর্ভুক্তিমূলক অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
নতুন অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই সুবিশাল বাজেটের মোট আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই ঘাটতি সুষ্ঠুভাবে মোকাবিলায় সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় খাত থেকে অর্থ সংগ্রহের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও আন্তর্জাতিক অনুদান হিসেবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঘাটতি মেটানোর জন্য মোট ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে।
সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিশাল আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা।
সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ঠেকাতে মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রেখে তা ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার আশা ব্যক্ত করা হয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভার পূর্বানুমোদন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের চূড়ান্ত সম্মতিক্রমে সংসদে উপস্থাপিত এই যুগান্তকারী বাজেট আগামী ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে যাচ্ছে।