বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রীড়া খাত হবে কর্মসংস্থানমুখী, দেশের ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের ঘোষণা

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০৫:২৫ পিএম

ক্রীড়া খাত হবে কর্মসংস্থানমুখী, দেশের ৬৪ জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের ঘোষণা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে একটি নতুন ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি দেওয়ার লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার। খেলাধুলাকে এখন থেকে আর নিছক বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে দেখা হবে না; বরং সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় একে একটি পূর্ণাঙ্গ আয় ও কর্মসংস্থানমুখী খাত হিসেবে গড়ে তোলার যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের সব কটি অর্থাৎ ৬৪টি জেলায় আধুনিক সুবিধাসংবলিত ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ বা ক্রীড়াপল্লী নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

 

পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানের সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিশাল এক জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ার উন্মোচন করবে।

 

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করেন যে, ক্রীড়াকে একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ইতিমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথম ধাপে দেশের ৩০০ জন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিশেষ ক্রীড়া ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়েছে।

 

দেশব্যাপী ৬৪টি জেলায় যে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০টি জেলার স্পোর্টস ভিলেজের কাঠামোগত নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

 

এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং বিদেশি সহযোগিতা বাড়াতে ‘ক্রীড়া কূটনীতি’ আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

 

তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনার লক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নামক একটি অনন্য কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী সম্ভাবনাময় ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের আর্থিক বৃত্তি প্রদান করা হবে।

 

এই কর্মসূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার এবং মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি জনপ্রিয় খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগে সারা দেশ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।

 

দেশব্যাপী ইতিমধ্যেই ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন কিশোর-কিশোরী নিজেদের নাম নিবন্ধন করেছে, যার মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ জন কিশোর এবং ৪৭ হাজার ১৩০ জন কিশোরী রয়েছে।

 

বিশাল এই তৃণমূল কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ২০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পরিশেষে অর্থমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন যে, এই সামগ্রিক আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন তাদের শিক্ষাজীবনে অন্তত একটি খেলাধুলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

 

এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিতভাবে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের একটি ধারাবাহিক রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।