বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ফের ব্রিফকেস হাতে সংসদে অর্থমন্ত্রী

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ফের ব্রিফকেস হাতে সংসদে অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের পুরোনো এক সংসদীয় ঐতিহ্যের বর্ণিল পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারও চিরচেনা ব্রিফকেস হাতে নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেছেন দেশের অর্থমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটার দিকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করতে জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

 

উল্লেখ্য, বিগত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই ঐতিহ্যবাহী ব্রিফকেস বহন করেননি। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর অর্থমন্ত্রীর হাতে থাকা এই বিশেষ প্রতীকী বস্তুটি উপস্থিত সবার মাঝে নতুন করে কৌতূহল ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

 

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের প্রাক্কালে অর্থমন্ত্রীর হাতে একটি নির্দিষ্ট ব্যাগ বা ব্রিফকেস থাকার এই রীতিটি বিশ্বজুড়েই বেশ সমাদৃত এবং প্রাচীন। এটি মূলত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার একটি শক্তিশালী প্রতীকী প্রথা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

 

যুগ যুগ ধরে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি গণতান্ত্রিক দেশেই বাজেট ঘোষণার দিন অর্থমন্ত্রীরা সংসদে প্রবেশ করার সময় হাতে থাকা ব্রিফকেস খুলে লিখিত বক্তৃতা বের করে পাঠ করে থাকেন। এই ব্রিফকেসের উৎপত্তি ও ব্যবহারের পেছনের ইতিহাস অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক।

 

প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খান তাঁর রচিত ‘বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইউরোপে শিল্পবিপ্লবের পর যখন ইংল্যান্ডের অর্থনীতির আকার বিশাল রূপ ধারণ করে।

 

তখন বাজেটবিষয়ক প্রস্তাবনাগুলো কেবল একটি সাধারণ মানিব্যাগে সংকুলান করা সম্ভব হচ্ছিল না। মূলত সেই ব্যাপক প্রয়োজনের তাগিদেই মানিব্যাগের স্থান দখল করে নেয় এই ব্রিফকেস।

 

ঐতিহাসিক তথ্যমতে, বাজেটের দিন ব্রিফকেস ব্যবহারের এই সুদীর্ঘ রীতির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল আঠারো শতকের যুক্তরাজ্যে। সে সময় বাজেটপ্রধানকে এই বিশেষ ব্যাগ খুলে তাঁর অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা পেশ করতে বলা হতো।

 

পরবর্তীতে ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ বাজেটপ্রধান উইলিয়াম ই গ্ল্যাডস্টোন প্রথম একটি লাল রঙের ব্রিফকেসে করে বাজেটসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে সংসদে আসেন। সোনা দিয়ে মোড়ানো এবং তৎকালীন রানির মুখের আদলের ছাপযুক্ত সেই ঐতিহাসিক ব্যাগটি যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সরকারের আমলেই সযত্নে ব্যবহার করা হয়েছিল।

 

যদিও প্রথা অনুযায়ী সাধারণত ‘লাল ব্রিফকেস’ হাতে নিয়েই বাজেট পেশ করতে দেখা যায়, তবে সময়ের পরিক্রমায় এর রঙের পরিবর্তনও ঘটেছে। তবে রং যা-ই হোক না কেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সংসদীয় রীতিতে এই ব্রিফকেসটি জাতীয় বাজেটের এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক হিসেবেই পরিগণিত হয়ে আসছে।

 

এমনই এক ঐতিহ্যবাহী রীতির আবহে এবার ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শীর্ষক সময়োপযোগী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত মেগা বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

এবারের বাজেটের সর্বমোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। দেশের সার্বিক উন্নয়নের এই সুবিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

 

ফলে সামগ্রিক আয়ের তুলনায় ব্যয়ের বিশাল ব্যবধান বা ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজেটের এই বিপুল ঘাটতি সফলভাবে মেটানোর জন্য দেশীয় অভ্যন্তরীণ খাত এবং বৈদেশিক ঋণ-এই উভয় উৎস থেকেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে।