সাধারণ ও প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সহনীয়, স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী রাখার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্যে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও কর ছাড়ের বিশেষ সুবিধা আরও সম্প্রসারিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত নতুন রূপরেখা অনুযায়ী এই রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ আগামী ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলে তা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প খাতের ধারাবাহিক প্রসারে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা পালন করবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের মূল অধিবেশনে আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বিশাল ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশনেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লা আমদানিতে শুল্ক রেয়াতের এই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবটি পেশ করা হবে।
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে এটি পঞ্চান্নতম জাতীয় বাজেট এবং নির্বাচিত বর্তমান সরকারের মেয়াদে দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য এটি প্রথম বাজেট উপস্থাপনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ও দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই সুবিশাল মেগা বাজেটের সর্বমোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
দেশের সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
আয় ও ব্যয়ের এই কাঠামোগত হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিক বাজেটে নিট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বিশাল অঙ্কের এই বাজেট ঘাটতি সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল কৌশল গ্রহণ করেছে।
অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং খাত ও সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি বৈদেশিক ঋণ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদানসহ উভয় উৎস থেকেই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের একটি সমন্বিত ও কার্যকর রূপরেখা এই বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও প্রচলিত আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপনের পূর্বে এই প্রস্তাবিত বাজেটটি বিশেষ মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হবে।
এরপর নিয়মমাফিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে তাঁর আনুষ্ঠানিক সম্মতি জ্ঞাপন করবেন। সব দাপ্তরিক ও আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করার পর আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই অর্থবছর দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতির এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে সরকারের এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও রক্ষাকবচমূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।