বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসন্ন বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই

আর এন এস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ জুন, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

আসন্ন বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর জন্য আলাদা বরাদ্দ নেই
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও, এই খাতে আলাদা করে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে না।

 

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন বেতন কাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান অন্য খাতের থোক বরাদ্দ এবং অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ সংরক্ষিত তহবিল থেকে মেটানো হবে।

 

ফলে আলাদা বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন এই বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

 

প্রস্তাবিত বাজেটের রূপরেখা অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদানের জন্য সর্বমোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ক্যাডার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আনুষঙ্গিক ভাতা প্রদানের জন্য আরও ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এই বেতন ও ভাতা খাতে সর্বমোট বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে সংশোধিত বাজেটে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, আগামী অর্থবছরের একেবারে শুরু থেকেই অর্থাৎ জুলাই মাস থেকে নতুন বেতন কাঠামোটি আংশিকভাবে কার্যকর করার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা সরকারের রয়েছে।

 

প্রাথমিকভাবে মূল বেতন বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক সুবিধা এই ধাপে কার্যকর করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত বেতন কমিশন যে রূপরেখা বা সুপারিশ প্রণয়ন করেছিল, তা সরাসরি হুবহু বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ।

 

কারণ, ওই কমিশনের দেওয়া সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার জন্য সরকার ইতিমধ্যে একটি বিশেষ সচিব কমিটি গঠন করেছে, যারা এখনো তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা সুপারিশমালা জমা দেয়নি।

 

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, গঠিত এই সচিব কমিটি সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বেতন বৃদ্ধির হার পূর্বের তুলনায় কিছুটা কমিয়ে একটি সংশোধিত প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করতে পারে।

 

তবে নতুন এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক সংকট বা অর্থায়ন বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেই মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কারণ, প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

 

এর পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের জন্য সরকারের হাতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ অর্থও মজুত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন দেখা দিলে এসব বিকল্প উৎস থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর সমুদয় ব্যয় নির্বাহ করা হবে।